সাতক্ষীরার নদ-নদী ও নৌ-খালগুলোর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং নাব্যতা রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত ও পুনরায় যাচাইয়ের ভিত্তিতে এই বিশেষ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব (এসএ) শাখা থেকে ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনাটি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টালে এই উচ্ছেদ রূপরেখা ও ৩০২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
দখলদারদের তালিকায় প্রথম থেকে পঞ্চমে আছেন লাভলুর রহমান, মিন্টু রহমান, রেজাউল ইসলাম, আইনুল ইসলাম ও মহিদ হোসেন।
প্রশাসন জানায়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনায় জেলার প্রতিটি নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা মাঠ পর্যায়ে এসিল্যান্ডদের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। বেতনা নদীতে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য স্থানেও দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
নদী সুরক্ষা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, প্রাক্টিক্যালি আমাদের যে নদী আইন ও পরবর্তীতে সংশোধিত যে নদী আইনটি হয়েছে। সেটা গুরুত্ব দিয়ে মাঠে সঠিকভাবে পালন করা হয়, তাহলে মানুষজন নদী দখল ও দূষণ থেকে পিছিয়ে আসবে। তবে তার আগে যেটি সবচেয়ে বেশি দরকার, সেটি হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম মইন বলেন, জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা ইতোমধ্যেই পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। প্রথমত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় বাজেট বা বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই ক্রমান্বয়ে সব দখলদারদের উচ্ছেদে মূল অভিযান শুরু হবে। শনিবার (১৮ জুলাই) থেকেই আমরা নেটপাটার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযান শুরু করছি, এর পরপরই বড় দখলদারদের হাত থেকে নদীর জায়গা উদ্ধার করা হবে।