রাকসু প্রতিনিধিদের প্রথম অধিবেশন ৪ নভেম্বর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘অনানুষ্ঠানিক’ সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসু সভাপতি অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। এ সময় নির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে উপাচার্যের প্রাথমিক পরিচয়, রাকসুর গঠনতন্ত্র, ফান্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপস্থিত ছাত্র নেতারা। এ ছাড়া আজকের সভা থেকে আগামী ৪ নভেম্বর রাকসুর ‘আনুষ্ঠানিক’ অধিবেশনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে এ আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা চলে দুপুর ২ টা পর্যন্ত। তবে আলোচনা সভায় নারী বিষয়ক সম্পাদক সাইয়েদা হাফসা ও ক্রিড়া ও খেলাধুলা বিষয়ক সম্পাদক নার্গিস খাতুন উপস্থিত ছিলেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত এক সদস্য জানান, আজকের আলোচনা সভায় বিগত সময়ে রাকসুর ফান্ডে কতটাকা জমা পড়েছে এবং বর্তমানে কতটাকা আছে এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে রাকসুর ফান্ড থেকে বিগত সময়ে কিছু টাকা বিভিন্ন সময়ে খরচ হয়েছে। খরচগুলোরও কোনো ভাউচার বা এমন লিপি পাওয়া যায়নি।

আলোচনা শেষে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের এই সভাটি ছিলো পরিচিতিমূলক সৌজন্য বৈঠক। আমরা প্রায় দুঘন্টার বৈঠকে ছাত্র সংক্রান্ত, পড়াশোনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনানুষ্ঠনিক আলোচনা হয়েছে। আমরা আগামী ৪ নভেম্বর থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করব। আনুষ্ঠানিক সভায় আমরা সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম শুরু করব। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে ভালোভাবে কাজ করবে এ বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

রাকসু সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আমরা আজকের সভা থেকে আমাদের প্রথম অধিবেশনের দিনটি চূড়ান্ত করতে পেরেছি। আগামী ৪ তারিখে আমাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক থেকে আমাদের ইশতেহারগুলো বাস্তবায়নের একটি পন্থা নির্ধারণ করে কাজ শুরু করব। আমরা আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর।  এ বিষয়ে আজকের আলোচনায় খসড়া আলোচনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অধিবেশনের দিন আমরা এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।

সভা শেষে রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, নির্বাচনে আমাদের কমন ইশতেহার দেওয়া হয়েছে। আমরা একটু দেরিতে হলেও আমাদের প্রথম অধিবেশনে দ্রুতই বসব। আমাদের মোটামুটি সবার ইশতেহারই কমন। আমাদের শুরুটা ধীর গতির হলেও আমরা অনেক দিক দিয়ে আগিয়ে যাব। আমাদের দৃশ্যমান কাজগুলো না হলেও ভেতরে ভেতরে পরিকল্পনাগুলো হয়ে যাচ্ছে। আমরা যেকোনোভাবে আমাদের ইশতেহারগুলো যথা সময়ে বাস্তবায়ন করেই যাব। আমার অনুরোধ করব আমাদের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তুলনা করার দরকার নেই। আমরা রাকসুর প্রতিনিধি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমরা কাজ করে যাব।