রাকসুর সেমিনারে শিশির মনির-ফুয়াদ, ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

জামায়াত নেতা ও আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আলোচক করে গণভোট বিষয়ক একটি সভায় তাদের ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একদল শিক্ষার্থী। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সেমিনারটির আয়োজন করে।

এর আগে সেমিনারটি সিনেট ভবনে আয়োজনে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ ছিল সিনেট ভবন বিনা অনুমতিতেই আয়োজনের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করেছিল রাকসু।

রাকসু সূত্রে জানা গেছে, রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তবে এই আয়োজন সম্পর্কে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন সম্পাদকসহ অনেক সম্পাদকরাই জানেন না বলে দাবি করেছেন তারা।

এ ছাড়াও জামায়েত এবং এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এই সভার ভেন্যু সিনেট ভবন স্থান নির্ধারণে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের খোলা জায়গায় সেমিনারটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় রাকসু। কর্মসূচিটি ঘিরে আলোচকদের ‘মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী’, ‘আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের আইনজীবী’ উল্লেখ করে লালকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। সে কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচকরা মঞ্চে উঠার আগের তাদের উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

লাল কার্ড প্রদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়েছেন শিশির মনির। তিনি ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দোসর। ড. জোহা স্যারের এই পবিত্র ক্যাম্পাসে আমরা কোনও খুনের দোসরকে গ্রহণ করতে পারি না।’ এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এ সময় তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

এদিকে তাদের কর্মসূচির প্রতিবাদের নিজের বক্তব্যে প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘লাল কার্ড কাকে দেখাতে হবে সেই বুদ্ধি আপনাদের এখনও হয়নি। যারা সংবিধানের নামে দেশ বিক্রি করছে, তাদের লাল কার্ড দেখান। আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাই, সেখানে আপনারা কোন পক্ষে? আজাদীর পক্ষে নাকি গোলামীর? জনগণের এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তরুণরা ঘরে ফিরবে না।’

সেমিনারে গণভোটের ফলাফল নিয়ে আলোচনায় আইনজীবী শিশির মনির বলেন ‘গণভোটের ভিত্তিতে পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। তবে, পার্লামেন্ট গঠনের পর যারা সংস্কারের দায়িত্বে ছিলেন, নির্বাচনের পর তারা আমাদের সঙ্গে পল্টি মেরেছেন। নির্বাচনের আগে আমরা সবাই একমত হলাম যে সংবিধানের ভেতর থেকে সমাধান বের করে সংস্কার করতে হবে। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেলেন, কিন্তু এখন তারা বলছেন রাষ্ট্রপতি একটি “অশ্বডিম্ব” পাড়ানো হয়েছে। ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। যারা জুলাই সংস্কার থেকে দূরে সরে গেছে, তারা শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। জুলাই সংস্কার প্রচার করে ক্ষমতায় এসে দলটি এখন ১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে পল্টি মেরেছে।

তিনি বলেন, তাদের আচরণ দেখে মনে হয়, তারা সংবিধান সম্পর্কে জানে না। ৫ আগস্টের পর কেউ আর কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করে না। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতির সিস্টেম থেকে মুক্তি চেয়েছে।

শিশির মনির বলেন, যদি মানুষকে আবারও গুম করতে না চান, তাহলে ‘গুম অধ্যাদেশ’ আইনে রূপান্তর করতে হবে। যদি তা না করতে পারেন, তাহলে রক্তের দাম দিন, আমার মায়ের আর্তনাদ ফিরিয়ে দিন। হঠাৎ করে বিদেশ থেকে এসে পার্লামেন্টে চুপ মেরে বসে থাকবেন— এমন আচরণ কি জাতি মেনে নেবে? সংসদে উত্তর না দিয়ে সন্ধ্যায় সিনেমা হলে হাজির হচ্ছেন। আপনারা যে জুলাই সনদ রেখে গেছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, জুলাইকে বিএনপি গুরুত্ব দিতে চায় না। কারণ, যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছে, হাত হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে— তাদের খুঁজতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই আপনারা জুলাই আন্দোলনকে গুরুত্ব দিতে চান না।

শিশির মনির আরও বলেন, অতীতেও একটি পোস্ট দিলে রাত ১২টায় ডিজিএফআই বাসায় হাজির হতো। এখনও তাই হচ্ছে। এর নাম ফ্যাসিবাদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ছাত্রসমাজ যদি আবারও জেগে উঠে তাহলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে উপায় থাকবে না।

সেমিনারে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কয়েকজন সম্পাদক ও সদস্যসহ দুই শতাধিক শিবির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত