ভাঙা ড্রেসিংরুম মরচে ধরা সাইট স্ক্রিন আর প্রায় পরিত্যক্ত গ্যালারি হলেও কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুটো মাঠই খুব সম্ভবত ব্যাটসম্যানদের কাছে প্রিয়। কারণ বাংলাদেশের খুব কম ভেন্যুর উইকেটই এতটা ব্যাটিংবান্ধব! জাতীয় লিগে কক্সবাজারে চলছে দুটো ম্যাচ, দুই ম্যাচেই বড় রানের দেখা পেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। রংপুরের বিপক্ষে ৩ সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৫৫৫ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে ময়মনসিংহ। আরেক মাঠে চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে করেছে ৩৫৮ রান। সিলেট স্টেডিয়ামে সেঞ্চুরি করেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তবে রান হচ্ছে না ঢাকায়। শেরে বাংলার কালো মাটির উইকেট ধরে রেখেছে স্বকীয়তা। দ্বিতীয় দিনের ভেতরই রাজশাহী ও খুলনা দুই দলের প্রথম ইনিংস শেষ, দ্বিতীয় ইনিংসেও খুলনা হারিয়েছে ১ উইকেট।
রংপুরের বিপক্ষে প্রথম দিন শেষে ময়মনসিংহের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ২৮১ রান, সেখান থেকে দ্বিতীয় দিনে খেলা শুরু করে প্রথমবার জাতীয় লিগে আসা দলটির প্রথম ইনিংস থামে ৬ উইকেটে ৫৫৫ রানে। বলা ভালো থামিয়ে দেন নাঈম শেখ, ময়মনসিংহের অধিনায়ক। উইকেটরক্ষক মিম মোসাদ্দেক বাদে রংপুর স্কোয়াডের ১০ জনই বোলিং করেছেন, কিন্তু ময়মনসিংহের উইকেট ফেলতে পারছিলেন না। প্রথম দিনে নাঈম এবং রবিনের পর দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরি করেছেন আব্দুল মজিদ, তবে চমক দেখিয়েছেন আবু হায়দার রনি, ৩৪ বলে ৬০* রানের ইনিংস খেলে। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৮ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়েছে রংপুর, মোসাদ্দেক ১৪ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন আউট হয়েছেন ২ রানে।
কক্সবাজারের আরেক ভেন্যুতে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও তিন অঙ্কের রানে পৌঁছানো হয়নি মমিনুল হকের। নিজের শহরের ভেন্যুতে মমিনুল ৯২ রানে আউট হয়ে গেছেন বরিশালের রুয়েল মিয়ার বলে। বরিশালের বিপক্ষে চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৩৫৮ রানে। ৪ উইকেট তানভির ইসলামের। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বরিশাল ২ উইকেটে ১১৫।
সিলেটে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঢাকার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৩১০ রানে। ১২২ রান করেছেন অঙ্কন, তবে চমক দেখিয়েছেন সুমন খান। মানিকগঞ্জের এই পেসার করেছেন ৯৯ বলে ৭৪ রান। ৩ উইকেট করে নিয়েছেন এবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ। সিলেট দ্বিতীয় দিন শেষে ১২ ওভারে বিনা উইকেটে ৩৩।
মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দিন দুপুরেই জ্বলেছে ফ্লাড লাইট। কালো মাটিতে লাল বল আরও গাঢ় হয়েছে, ফলে বল দেখাই দুর্বিষহ। প্রথম ইনিংসে খুলনাকে ১২১ রানে অলআউট করার পর রাজশাহীও অলআউট হয়েছে ২৬৮ রানে। সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেছেন শাকির হোসেন শুভ্র। ৪৭ রান করেছেন প্রীতম কুমার। ৪ উইকেট করে নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খুলনার সংগ্রহ ১৯ ওভারে ১ উইকেটে ৬৮ রান, পিছিয়ে আছে ৭৯ রানে।