বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকদের সভায় চুক্তিবদ্ধ নারী ক্রিকেটারদের বেতন ৩৫% বাড়ানো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যা বর্তমান অর্থবছরেই কার্যকর হবে। সোমবার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে সভা শেষে জানিয়েছেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। একই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলকে আয়ারল্যান্ড সিরিজের জন্য ব্যাটিং কোচ এবং আব্দুর রাজ্জাককে টিম ডিরেক্টর হিসেবে দলে সঙ্গে যোগ করারও।
দীর্ঘ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আমজাদ জানিয়েছেন, 'চুক্তিবদ্ধ নারী ক্রিকেটারদের বেতন ৩৫% বাড়ানো হয়েছে।' বর্তমানে ১৫ জন নারী ক্রিকেটার আছেন বিসিবি'র কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বেতন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। জ্যোতি 'এ' শ্রেণীতে চুক্তিবদ্ধ, এই শ্রেণীতে আছেন আরো দুইজন, নাহিদা আক্তার ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। বি শ্রেণীতে চুক্তিবদ্ধ ৬ জন, তাদের বেতন ১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। সি শ্রেণীতে শুধুই স্বর্ণা আক্তার, তার বেতন ৭০ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৫ হাজার আর ডি শ্রেণীভুক্ত ৫ ক্রিকেটারের বেতন ৬০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।অধিনায়ক বাড়তি ৩০ হাজার টাকা ও সহ-অধিনায়ক বাড়তি ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন, চুক্তির বাইরে থাকা ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেললে বেতন পাবেন ৬০ হাজার টাকা করে।
টিম ডিরেক্টর হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক অতীতের মত একাদশ নির্বাচনেও মতামত রাখবেন কি না, এমন প্রশ্নে বলেছেন, 'আমি চেষ্টা করব ওখানে এইভাবে থাকার জন্য যাতে আমি ইনপুট দিবই এরকম না। যদি ওরা প্রয়োজন মনে করে তাহলে অবশ্যই আমার কিছু ইনপুট থাকবে ওখানে আর যদি ওরা মনে করে যে আমার ইনপুট না হলেও চলছে অথবা আমি যদি অনুভব করি কোনরকম কোন সমস্যা হচ্ছে তাহলে আমি সাহায্য করব'। অতীতে খালেদ মাহমুদ সুজন দলের সঙ্গে নানান সময়ে টিম ডিরেক্টর হিসেবে থেকে একাদশ বাছাইতে ভূমিকা রেখেছেন, তবে অন্য অনেক পরিচালক স্রেফ সফরসঙ্গী হয়েই এই পদে দলের সঙ্গে থাকতেন।
সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে বিসিবি'র সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তের বিষয়ও। সোমবারেই ৪৩টি ক্লাব তাদের প্রতিনিধির সাক্ষরিত চিঠিতে জানায় যে তারা বিসিবি'র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ মনে করে এবং তারা লিগে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকবে। সন্ধ্যায় বিসিবির পক্ষে থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, 'এখন থেকে কোনো ক্লাব লিগে অংশ না নিলে বা মাঝপথে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং তৃতীয় বিভাগ কোয়ালিফাইং লিগ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এ ধারার আওতায় লিগে অংশগ্রহণে ব্যর্থ ক্লাবগুলো অযোগ্য ঘোষিত হবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবনমনের মুখোমুখি হতে হবে।
লিগ বর্জন করা ক্লাবগুলোর মধ্যে অনেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাবও আছে। তাদের বাদ দিয়ে লিগ আয়োজন সম্ভব হবে কি না এমন প্রশ্নে আমজাদ জানিয়েছেন, ' সিসিডিএমে গতবার আমাদের যে বাজেট ছিল তার থেকে এবার ৪০% বাজেট বাড়ানো হয়েছে। ক্লাবের খেলার অধিকার বা না খেলার অধিকার তাদের নিজস্ব'।