রাত পোহালেই মণিপুরি মহারাসলীলা, প্রস্তুতি সম্পন্ন 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মণিপুরি অধ্যুষিত গ্রাম ও পাড়াগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। চলছে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য এবং রাসনৃত্যের শেষ মহড়া। রাত পোহালেই বুধবার (৫ নভেম্বর) কমলগঞ্জের মণিপুরিদের পৃথক দুটি গ্রামে আয়োজন হবে রাস উৎসবের। উপজেলার মাধবপুরের জোড়া মণ্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরি) সম্প্রদায়ের ১৮৩তম এবং আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মীতৈ (মণিপুরি) সম্প্রদায়ের ৪০তম মহারাস উৎসব হবে। রাসপূর্ণিমার আলোয় ভেসে যাওয়ার জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার পালা।

রাস উৎসব আয়োজকরা জানান, মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র মণিপুরে প্রথম এই রাসমেলা প্রবর্তন করেছিলেন। মণিপুরের বাইরে ১৮৪২ সালে কমলগঞ্জের মাধবপুরে প্রথম মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাস উৎসবে সকালবেলা ‘গোষ্ঠলীলা’ বা ‘রাখাল নৃত্য’ হয়। গোধূলি পর্যন্ত চলে এই রাখাল নৃত্য। এরপর সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা শেষে রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয় রাস উৎসবের মূল পর্ব শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা অনুসরণ। মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের পোশাকে নেচে গেয়ে কৃষ্ণবন্দনা ভোর পযন্ত চলে রাসলীলা। রাসনৃত্যে শ্রীকৃষ্ণ, রাধা ও প্রায় ৫০ জনের মতো গোপী থাকেন। গোপীর সংখ্যা অনেক সময় কম-বেশি হয়।

রাসনৃত্যের শিক্ষক বিধান চন্দ্র সিংহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুধবার বেলা ১২টা থেকে রাখাল নৃত্য শুরু হবে। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হবে রাস নৃত্য। এই রাসনৃত্যের জন্যই মহড়া হচ্ছে। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এই রাস উৎসব দেখতে এখানে ভিড় করেন। এটা মণিপুরিদের ঐহিত্যবাহী উৎসব।’

এদিকে উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রাস উৎসবে ব্যাপক লোকসমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বিঘ্নে উৎসব সম্পন্ন করতে নানামুখী উদ্যোগ হাতে নিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। বুধবার (৫ নভেম্বর) আমাদের রাস উৎসব। এই রাস উৎসব দেখতে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করেন। আশা করছি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ও প্রশাসনের সহযোগিতায় রাস উৎসব সফল হবে।’