লক্ষ্মীপুরে শতাধিক অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

লক্ষ্মীপুরে শতাধিক অবৈধ ইটভাটায় অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রামগতি উপজেলার চর আফজাল এলাকা থেকে শুরু হয় অভিযান। এসময় আমানত ইটভাটা, জেসমিন সারোয়ার ও আবদুল ওয়াহাবসহ তিনটি  ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ৫টি ভেক্যু মেশিনের সাহায্যে ভাটার চুল্লি, চিমনি এবং কাঁচা ইট বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এরপর অন্য ইটভাটায় অভিযানে যাওয়ার সময় চৌধুরী বাজার এলাকায় রাস্তায় গাছের গুড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এসময় প্রশাসন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

অভিযানে অংশ নেয় রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমজাদ হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন, ঢাকা কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান, লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান, রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন সহ পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান করায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, রামগতি ও কমলনগরে ৫১টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৪৯টি ভাটা অবৈধ। জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এসব ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। টানা ৭ দিন অভিযান চলবে। অবৈধ ভাটা ভেঙে দেওয়ার পরেও যাতে চালু করতে না পারে, সেজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জেলায় প্রায় শতাধিক ইটভাটার কোন কাগজপত্র নেই। এইগুলো পুরোপুরি অবৈধ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্রগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, শুধু লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৫১টি ইটভাটার মধ্যে ৪৯টি ইটভাটার কোন কাগজপত্র নেই। এগুলো পুরোপুরি অবৈধ। তাই এসব অবৈধ ইটভাটা কোনভাবে চলতে দেওয়া হবে না। এইগুলো সব বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোন শক্তির কাছে মাথা নত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, অভিযান চালিয়ে অবৈধ তিনটি ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য ইটভাটায় অভিযানে যাওয়ার সময় শ্রমিকরা রাস্তায় গাছের গুড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।