নদীতে জাল ফেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব, দুই গ্রুপের মারপিটে আহত জেলের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের বুড়ি পোতাজিয়া মৌজার গোহালা নদীতে মাছ ধরাকালে একইস্থানে জাল ফেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দুই জেলে গ্রুপের হামলা মারপিটে আহত তেঁতুল হলদার ওরফে বিমল হলদার (৬০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছে।

নিহত তেঁতুল হলদার ওরফে বিমল হলদার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা হলদারপাড়া গ্রামের মৃত খোকা হলদারের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত ৩টার দিকে গোহালা নদীতে মাছ ধরার সময় নৌকার ওপর দুই জেলে গ্রুপের মধ্যে এ হামলা মারপিটের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আহত তেঁতুল হলদারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় পথেই মারা যান তিনি। পরে উভয়পক্ষের সমঝতায় নিহতের লাশ দাহ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে।

এলাকাবাসি জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত ৩টার দিকে বিমল গ্রুপ ও প্রতিবেশী প্রভাস গ্রুপ নৌকা নিয়ে বাদাই জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় দুই জেলে গ্রুপ একই স্থানে জাল ফেলে। এ নিয়ে দুই জেলে গ্রুপের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হামলা মারপিটের ঘটনা ঘটে।

এ সময় হরেন হলদার, প্রভাস হলদার ও রিপন হলদারের হামলা ও মারপিটে তেঁতুল হলদার ওরফে বিমল হালদার গুরুতর আহত হয়। এ বিষয়ে নিহত তেঁতুল হলদারের ছেলে আকাশ হলদার ও ভাতিজা কৃষ্ণ হলদার জানান, তাকে উদ্ধার করে রাতেই পোতাজিয়ায় অবস্থিত শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুক্রবার হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করে। স্থানীয়রা জানায় পরে দুপক্ষের সমঝতায় নিহতের লাশ দাহ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি মো. আসলাম আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এ দিন দুপুরে বিমল হলদার তার এক আহত ভাতিজাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ষ্টোক করে মারা গেছেন। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক আবেগের বসে তার পরিবারের লোকজন সাংবাদিকদের কাছে ওই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন ব্লাডপ্রেসার কমে গিয়ে তিনি স্টোক করে মারা গেছেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাসুদ রানা বলেন, আমি ছুটিতে থাকায় তাৎক্ষণিক কিছু বলতে পারছি না। রবিবার অফিসে এলে রেজিস্ট্রার দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।