এশিয়ান আরচারি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চপল

প্রথমবারের মত ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। শনিবার ঢাকায় একটি হোটেলে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারি এশিয়ার কংগ্রেসের পর অনুষ্ঠিত ভোটে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীকে ২৯-৯ ভোটে হারিয়েছেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর চপল বলেছেন, 'বাংলাদেশের আরচারিকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।'

এশিয়ার আরচারির বর্তমান প্রেসিডেন্ট চুং এবার প্রার্থী হননি। তিনি ঢাকায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসেও আসেননি। তার অনুপস্থিতিতে চপল কংগ্রেসের সভাপতিত্ব করেন৷ অনলাইন ভোটে চপলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টমাস হান, যিনি বিদায় কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি হুন্দাই গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট তিনি।  আর কাজী চপল দুবারের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বাংলাদেশের আরচারির প্রতিষ্ঠাতা। এশিয়ান আরচ্যারির এবারের আসরের লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জয়ের পর চপল বলেন, “নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। কারণ গতকাল রাতে আমরা চারটা সার্ভে রিপোর্ট পেয়েছি যে আমি কত ভোট পেতে পারি। চারটা গ্রুপই আমাকে রেজাল্ট দিল ২৯ ভোট পাব। এশিয়ান আরচারি ফেডারেশনের ইতিহাসে এত বড় ঘটনা আর কখনও ঘটেনি।' এরপর তিনি বলেন, “এটা বাংলাদেশের বড় অর্জন। কারণ আমরা রাজনৈতিকভাবে কখনও আপস করিনি। আমাদের ফেডারেশন এখনও নন পলিটিকাল। আমরা কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কিন্তু আমরা কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করি। আজকের বিজয়টা আমাদের কূটনৈতিক বিজয়।'

চপলের স্বপ্ন ছিল একটা বড় দেশের প্রতিনিধিকে হারানোর, 'সেই দেশকে হারিয়েছি। অনেক বড় বড় দেশকে হারিয়েছি। আরেকটি দেশ দরকার যারা বিশ্বের এক নম্বর। তাদেরক হারাতে পারলে একটা বড় অর্জন হবে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সহসাই এক নম্বরে পৌঁছে যাবে।”

বাংলাদেশসহ এশিয়ার সব দেশকে আরও উন্নত পযায়ে নিয়ে যেতে চান চপল, “আমি বাংলাদেশকে এমন একটা স্তরে নিয়ে যাব যেটা কেউ কল্পনা করেনি। এবং এশিয়ার মানটাও বিশ্বমানে নিয়ে যেতে চাই। এশিয়াতে একটা দেশ প্রাধান্য বিস্তার করবে সেটা না। আমরা চাই প্রতিটি দেশ যেন উন্নতির শিখরে উঠতে পারে।'

বাংলাদেশের তীরন্দজাদের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, 'আজ পযন্ত বাংলাদেশ ফেডারেশন এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বা এমন কোনও আচরণ দেখায়নি যেখানে আরচাররা বঞ্চিত হয়। আমাদের সিদ্ধান্ত যে সঠিক সেটা আজ পেয়ে গেছেন আপনারা। কারণ আমরা বাংলাদেশের আর্চারদের নিয়ে যে চিন্তাটুকু করি বাংলাদেশের অন্যদের নিয়েও একই চিন্তা করি। আমরা তাদের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিই। তারা যে সুযোগসুবিধাগুলো পাই সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা যে সংগঠক হিসেবে সফল সেটা প্রমাণ হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো এশিয়াসহ আফ্রিকাতেও কাজ করেছি আমরা। আমি ইনশাল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রেও কাজ করব।”

কংগ্রেসে বাংলাদেশের আরও দুই জন নির্বাচিত হয়েছেন। এশিয়া প্যারা আরচারির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভির আহমেদ। আর আর্চার কোচ নূরে আলম এশিয়ান আরচারির কোচেস কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।