ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে জুয়েল শেখ (৩৫) নামে এক উদ্যোক্তার ৬০ শতাংশের পুকুরে বিষ প্রয়োগে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের শ্রীপুরজিথর গ্রামে। জুয়েল ওই গ্রামের প্রয়াত নজরুল শেখের ছেলে।
এ নিয়ে আজ শনিবার দুপুরে জুয়েল শেখ বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে শুক্রবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে জুয়েলের পুকুরে বিষ দেয় প্রতিপক্ষরা। অভিযোগে উল্লিখিত আসামিরা হলেন শ্রীপুরজিথর গ্রামের প্রয়াত কদ্দুস শেখের ছেলে রতন শেখ, খলিল শেখ, মানিক শেখ, রতনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ও তার দুই ছেলে রাকিব শেখ এবং শাকিব শেখ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুকুরে বিষ প্রয়োগের ফলে রুই, কাতলা, সিলভার কার্প, শরপুটি ও শিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ক্ষতিতে ভেঙে পড়েছেন জুয়েল। জুয়েল বলেন, প্রতিপক্ষের রতন শেখ ও তার সহযোগীরা পুকুরে পানি বিষ বা কিটনাশক জাতীয় কোনও পদার্থ মিশিয়ে আমার সর্বনাশ করেছে। এতে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী আমার ১০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে কোনও পুরুষ লোককে পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় বাড়িতে থাকা মানিক শেখের স্ত্রী মাসিদা বেগম বলেন, রতন শেখের মনিহারী দোকান থেকে বাজার ক্রয় নিয়ে জুয়েলদের সঙ্গে দোকানের সামনেই ঝগড়া হয়। এ ছাড়া আর কিছু বলতে পারেননি তিনি।
জানতে চাইলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, যদি কেউ মানুষের সঙ্গে শত্রুতা করে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করে থাকে এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিকে রবিবার অফিসে আসতে বলা হয়েছে। তিনি এলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।