নারী ক্রিকেটে স্বজনপ্রীতি আর যৌন হয়রানির একের পর এক অভিযোগে যখন ক্রিকেটাররা মুখ খুলছেন, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে চলছে ২ দিনের ক্রিকেট কনফারেন্স। যেখানে ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণ, উন্নয়ন সহ অনেক কিছু নিয়েই চলছে গুরুগম্ভীর আলোচনা। অথচ মেয়েরা যদি নিজেদের ক্যাম্পে, কোচ কিংবা কর্মকর্তাদের কাছেই নিরাপদ না থাকেন, দায়িত্বশীলরা যদি ব্যক্তিগত রিপুর উর্ধে উঠে নির্মোহভাবে দল পরিচালনা করতে না পারেন, তাহলে পাঁচ তারকা হোটেলে জ্ঞানী জ্ঞানী কথা উলুবনে মুক্তো ছড়ানোর মতই শোনায়।
রবিবার ক্রিকেট কনফারেন্সের প্রথম দিন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, যৌন হয়রানির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পেয়েও তদন্ত করছে বিসিবি।
বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, 'রুবাবা উনি তো আমাদের একজন পরিচালক, উনিই একমাত্র নারী পরিচালক। এই কমিটি (তদন্ত কমিটি) করার পেছনে যে কারণ শুধু না, যে ইচ্ছাটা ছিল সেটা হচ্ছে কমিটি হবে স্বাধীন। একজন বোর্ডের কেউ থাকা উচিত যে বোর্ডের তথ্য গুলো দিতে পারবে। আর যেহেতু ২০২১-২২ এর ঘটনা ছিল, এবং আমরা যতদূর জানি ২০২১-২২ সালে এটা শেষ হয়ে গিয়েছিল আর আমরা খবরগুলো পাচ্ছি কিছু জায়গা থেকে। ক্রিকেট বোর্ডে লিখিত কিছু বা মৌখিক কোন অভিযোগ আসেনি। তারপরও আমরা ব্যাপারগুলো দেখছি। অনেক কিছুই তো দেখছি, তবে তারপরও কেউ যদি অভিযোগ করে সেটা বোর্ডে লিখিতও আসতে পারে বা মৌখিক ভাবেও আসতে পারে। তখন বোর্ড ব্যপারটা আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখবে কারণ খবরে তো অনেক কিছুই থাকে। আমরা বলছি না কোনটা অসত্য আর কোনটা সত্য। জাহানারার যে অভিযোগ সেটা লিখিত এসেছিল ২০২১ সালে। সেটা খুব সম্ভবত ২০২১ সালেই সমাধান হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে যেটা এসেছে (অভিযোগ), সেটা আমাদের কাছে কিছু আসেনি এখনো।'
বিসিবি'র মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনও জানিয়েছেন, 'বিসিবি'র পক্ষ থেকে একজন পরিচালককে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য, বিসিবি কি ভাবে কাজ করে সেটা বোঝানোর জন্য এবং তিনি নারী হবেন এটা শ্রেয়তর বিকল্প। তাই রুবাবা দৌলাকে রাখা হয়েছে। (অভিযুক্তদের ওএসডি করা প্রসঙ্গে) কাউকে ওএসডি বা বরখাস্ত করা হয়েছে এমন কিছু ঘটেনি, তদন্তের সময় তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন এমন কেউ ঐ বিভাগে কর্মরত থাকলে তখন তাকে বদলী বা সাময়িকভাবে ছুটিতে পাঠানো যেতে পারে, এমনটা এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি।'