তামিমের অ্যাডহক কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে বুলবুল-ফারুকের রিট 

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

বিসিবির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে চেয়ারম্যান করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। বিসিবির নির্বাচিত সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, পরিচালক খালেদ মাসুদ, আসিফ আকবরসহ ১২ জন রিটকারী হিসেবে এই আবেদন করেছেন। বিচারপতি ফাতেমা নাজিব এবং বিচারপতি এ. এফ. এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে ইতোমধ্যে মামলাটি পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

রিট আবেদন থেকে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর তিন সদস্যের একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে বিসিবির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচন কমিশনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্বাহী পরিচালকও একজন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নির্বাচনে রিটকারীরা দেশের প্রচলিত ক্রিকেটীয় বিধি ও নিয়ম মেনে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে বিসিবির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায়, গত ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ৫ এপ্রিলের একটি বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত এই কমিটি ভেঙে দেয়। একই আদেশে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল খানকে চেয়ারম্যান করে একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।

রিটকারী পরিচালকদের মূল অভিযোগ, বিসিবি ভেঙে দেওয়ার মতো এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদেরকে কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি যে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কমিটি ভাঙা হলো, তার কোনো কপি বা শুনানির ন্যূনতম সুযোগও তাদের দেওয়া হয়নি। তারা কেবল সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেই বিষয়টি জানতে পারেন, যা সম্পূর্ণ একপেশে ও বেআইনি।

আদালতে আসার আগে রিটকারীরা তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্বাহী পরিচালককে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। ওই নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি ভেঙে দেওয়ার মূল আদেশ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের জোর দাবি জানানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এনএসসির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া বা সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে রিটকারীরা নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবীদের মাধ্যমে দায়ের করা এই রিট পিটিশনে হাইকোর্টের কাছে বেশ কয়েকটি জরুরি প্রার্থনা করা হয়েছে:
১. গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক বিসিবির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা।
২. তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সকল কার্যক্রমের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা।
৩. কমিটি ভেঙে দেওয়ার মূল আদেশ এবং তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিটকারীদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া।
৪. চূড়ান্ত শুনানি শেষে বেআইনিভাবে অপসারিত হওয়া নির্বাচিত কমিটিকে সপদে পুনর্বহাল করা।

রিটকারীদের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—কোনো সদস্য দেশের সরকার বা সরকারি সংস্থা কোনোভাবেই তাদের স্বাধীন ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বা প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই আকস্মিক ও সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির চোখে স্বায়ত্তশাসন হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ দল আইসিসির স্থায়ী সদস্যপদ হারানো কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়ার মতো মারাত্মক পরিণতিতে পড়তে পারে, যা দেশের ক্রিকেটের অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

রিট আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) এবং ৪০ (পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা) অনুযায়ী নাগরিকদের স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া নির্বাচিত পদে বহাল থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত