জয়পুরহাটে অন্য ফসলের চেয়ে করলা চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই এই চাষে ঝুঁকছেন। এখানকার উৎপাদিত করলার গুণগত মান ভালো হওয়ায় সরবরাহ হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ধান ও আলু উৎপাদনের উপজেলা হিসেবে বেশ পরিচিত। কিন্তু গত মৌসুমে আলু চাষে লোকসান গুনতে হয়েছে এখানকার চাষিদের। এর ফলেই ক্ষেতলালের মুনঝাড়, বাখরা, হাটশহর, আয়মাপুর, আটিদাশড়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে করলা চাষ। কম খরচে বেশি লাভ, রোগবালাই আর পোকামাকড়ের আক্রমণ কম। আর নিজ মেধা ও উদ্যোগে করলা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন শত শত কৃষক। এক বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হয় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে ৬০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়। মৌসুমের শুরুতে দাম হওয়ায় প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত করলা বিক্রি হয়। গুণগত মান ভালো হওয়ায় সারা বছরই চাহিদা থাকায় করলা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। বর্তমানে পাইকারি প্রতিকেজি করলা প্রকারভেদে ৫০-৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন এখানকার উৎপাদিত করলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে।
ক্ষেতলাল উপজেলার আয়মাপুর গ্রামের কৃষক আলেম, ধনতলার খায়রুল ইসলাম, ঘুগইল গ্রামের নবীর উদ্দীন জানান, এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করতে ৫৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত করলা বিক্রি হয়। অন্য ফসলের চেয়ে করলাতে লাভ বেশি। গত মৌসুমে আলু চাষ করে প্রচুর লোকসান হয়েছে এ জন্য করলা চাষে আমরা ঝুঁকে পড়েছি। করলাতে লাভও বেশি, ফসলের ঝুঁকি কম, দামও ভালো পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে আমরা করলা চাষ করে আরও সফল হতে পারব। এখানকার উৎপাদিত করলা ভালো জাতের হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকার এসে সারা দেশে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী নাসির হোসেন ও মোতালেব হোসেন বলেন, ক্ষেতলালের করলার সাইজ ও মান ভালো। তাই আমরা এখান থেকে করলা কিনি ও দেশের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করি। আবার অনেক সময় মহাজন আসে তাদের পাইকারি দিই। এতে আমরাও লাভবান হচ্ছি, কিন্তু করলা কেনাবেচার জন্য নির্ধারিত হাট নেই, মাঠের মধ্যেই আমাদের কিনতে হয়। টাকা-পয়সা নিয়ে অনেক সময় নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়তে হয়। নির্ধারিত হাট থাকলে ব্যবসায়ীদের জন্য খুব ভালো হতো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জানান, জয়পুরহাটের মাটি ও আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ক্ষেতলালের তুলশীগঙ্গা ও বড়াইল ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে এক দাগে ৫০ হেক্টর ও জেলার অন্যান্য উপজেলায় মোট ১৮০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করলা সরবরাহ হচ্ছে। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হয়।