কালিয়াকৈরে পোশাক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাতে এক পোশাক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে একটি হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকার শাহজাহান ওরফে নেদু মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (২৮)। তিনি স্থানীয় ইকোটেক্স লিমিটেড নামে কারখানায় চাকরি করতেন।  

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছর আগে খোকনের সঙ্গে কালিয়াকৈর উপজেলার ডাইনকিনি এলাকার মোস্তফার মেয়ে তাজিন আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের এক ছেলে রয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মাঝেমধ্যে তাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনের ঝগড়া-বিবাদ হতো। এসব কারণে খোকন তার গ্রামের বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ি ডাইনকিনি চলে আসেন। সেখান থেকে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্বশুরের দেওয়া বাড়িতে তারা বসবাস করে আসছিলেন। ওই বাড়িতে থেকে খোকন স্থানীয় ইকোটেক্স লিমিটেড নামে কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু স্ত্রী তাজিনের চালচলন সন্দেহজনক হলে চাকরি ছেড়ে দেন খোকন। স্বামী বেকার হওয়ার সুযোগে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তার তার স্ত্রী তাজিন। 

একপর্যায়ে একই এলাকার উৎস নামে এক ছেলের সঙ্গে তার স্ত্রী তাজিনের পরকিয়ার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও তাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিন্তু রাতে খোকনকে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর পরকিয়ার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর বিচার চান পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। 

উপজেলা মানবাধিকার সংস্থার সভাপতি ইমান আলী জানান, তাজিন একটি ছেলে নিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের মানবাধিকার অফিসে আসতেন। কিন্তু তাদের চলাফেরা খারাপ দেখে আমাদের মানবাধিকার সংস্থা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। 

এব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার তদন্ত (ওসি) জাফর আলী খান জানান, খবর পেয়ে পাশ্ববর্তী মির্জাপুর থানা এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটা হত্যা নাকি অন্য কিছু? সেটা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।