রোমান নির্মমতার কলোসিয়াম

প্রাচীন রোমে প্রায় দুই হাজার বছর আগে প্রায় পাঁচশ বছর শাসন করা রোমানরা বিখ্যাত কলোসিয়ামের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল। সম্রাট নিরো সিংহাসনে বসার ক্ষেত্রে তার আপন ভাই ব্রিটানিকাস বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, এই অনুমান থেকে তিনি ভাইকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন। পরবর্তী সময় মাকেও হত্যা করেন। ফলে রোমের সিনেট একসময় তাকে ‘জনগণের শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এরপর আত্মহত্যার মাধ্যমে তার জীবনাবসান ঘটে। সম্রাট নিরোর সোনালি প্রাসাদের সামনে বাগানের জায়গাটিই ‘কলোসিয়াম’ তৈরির স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ধারণা করা হয়, পুরো স্থাপনায় প্রবেশের জন্য মোট আশিটি দরজা রাখা হয়েছিল, কিন্তু ছিয়াত্তরটি দরজা দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারত। বাকি চারটি দরজার মধ্যে দুটি ছিল সম্রাটের জন্য সংরক্ষিত, আরেকটি দিয়ে বিজয়ী  সৈন্যরা কলোসিয়াম ত্যাগ করতেন।  অপরটি দিয়ে হিংস্র পশুর মৃতদেহ কিংবা পরাজিত/নিহত সৈন্যদের লাশ সরিয়ে ফেলা হতো। কলোসিয়ামে আসামিকে ভয়ংকর পশুদের সামনে ছেড়ে নির্মমতার সঙ্গে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হতো। মানুষের রুচি ও সময়ের পরিবর্তনের ফলে ৪০৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট অনারিয়াস কলোসিয়াম বাতিল ঘোষণা করেন। কিন্তু তারপরও পরবর্তী এক শতাব্দী ধরে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি কার্যকর করার জন্য কলোসিয়াম ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক এ স্থাপত্য দেখতে যান। কলোসিয়াম কারও কাছে ছিল নিছক বিনোদনকেন্দ্র, আবার কারও কাছে ছিল মানবতা ভুলণ্ঠিনের জায়গা।