‘আমাকে মাফ করে দিও’ চিরকুট লিখে রাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নিজের বাড়ি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মির্জাপুর এলাকার ‘ইসলাম টাওয়ার’ নামের নিজেদের আবাসিক ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

ঘটনাস্থল থেকে চারটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীটি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বাবা-মায়ের কাছে দোয়া চেয়েছেন। এক চিরকুটে তিনি লিখেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন।

মৃত শিক্ষার্থীর নাম সোনিয়া সুলতানা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, “সকাল সাড়ে আটটার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে আমরা পৌঁছানোর আগেই তার বাবা মরদেহ নামিয়ে ফেলেছিলেন। যে কাপড়টি দিয়ে তিনি ফাঁস দিয়েছিলেন, সেটি ফ্যানের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ছিল।”

তিনি আরও জানান, “সোনিয়া তার বাবা-মায়ের সঙ্গেই ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভোর ছয়টার দিকে তিনি মারা গেছেন। প্রথমে তার মা মরদেহ দেখতে পান।”

ঘটনাস্থল থেকে ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধারের কথা জানিয়ে ওসি বলেন, “চিরকুটে লেখা ছিল— ‘আমার অনেক কিছু করার ইচ্ছা ও স্বপ্ন ছিল, কিন্তু তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার যেন পোস্টমর্টেম না করা হয়। তোমরা আমাকে মাফ করে দিও।’”

ওসি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই এবং তারা ময়নাতদন্ত করাতে চান না। “প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে আত্মহত্যা হিসেবেই দেখছি,” বলেন তিনি।

এ বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আখতার বানু বলেন, “সোনিয়া ভোরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার বাবা-মা দুজনেই তখন বাসায় ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওড়নাসহ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সোনিয়া খুব ভালো ছাত্রী ছিল, সব বিষয়েই ভালো ফল করত। গতকালও তার ভাইভা ছিল, সেটাও ভালো করেছে।”