ইউরোপিয়ান অঞ্চলে ইউক্রেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আজ। ১৩ নভেম্বর দিনটি ফরাসিদের হৃদয়ে বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে। ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর, প্যারিসজুড়ে ঘটে একাধিক ভয়াবহ হামলার ঘটনা। ওই হামলায় প্রাণ হারান ১৩০ জন। শহরের বাতাক্লাঁ কনসার্ট হলে, মৃত্যু হয় বেশিরভাগ লোকের। ওই দিনই স্তাদ দেতে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে চলছিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। স্টেডিয়ামের কাছেও ঘটে বিস্ফোরণ, আত্মঘাতী হামলাকারীরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল তবে তাদের রুখে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
তখন মাঠে ছিলেন ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে দেশম বলেন, 'ভিতর থেকে মনে হয়, ১৩ নভেম্বরের মতো দিনে ম্যাচ না খেললেই ভালো হতো। কিন্তু আমরা ভুলে যেতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব হলো স্মরণ করা, তবে একইসঙ্গে ফুটবল খেলাও।'
সেদিন অবশ্য ম্যাচটি পুরো সময়ই খেলা হয়েছিল। ম্যাচ শুরুর ২০ মিনিটের মাথায় স্টেডিয়ামে শোনা যায় বিকট আওয়াজ। দর্শকরা প্রথমে ভেবেছিলো আতশবাজি। আরো বিকট শব্দে আওয়াজ আসতে থাকে। মুঠোফোনে আসতে থাকে ভয়াবহ দুঃসংবাদ। স্টেডিয়ামের সাউন্ড সিস্টেমে জানানো হয়নি বাইরের ভয়াবহতার খবর। এভাবেই শেষ হয় খেলা। ফ্রান্স জিতেছিল ২-০ তে। ম্যাচে উপস্থিত ৭০ হাজার দর্শক খেলা শেষ হওয়ার পর নেমে গিয়েছিলেন মাঠে। বাইরে বের হননি তারা। সেদিন বাইরে বের হওয়ার চেয়ে মাঠেই নিজেদের নিরাপদ ভেবেছিলেন দর্শকরা। পরে অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে তারা মাঠ ছাড়েন।
ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমাপ্পে বলেন, 'সবাই জানে দিনটি কতটা বিশেষ তবে আনন্দের অর্থে নয়। আমরা স্মরণ করতে চাই সব ভুক্তভোগীদের যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা মাঠে চেষ্টা করব তাদের মুখে অন্তত একটু হাসি ফুটাতে, যদিও জানি এটি কোনো আনন্দের দিন নয়।'
আজ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে দিনটি স্মরণে ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত হবে এক মিনিট নীরবতা পালন। এই ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, জিতলেই তারা ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করবে। আর ইউক্রেনের জন্য এই ম্যাচটি বাঁচা-মরার। জয় ছাড়া তাদের সম্ভাবনা প্রায় শেষ, আর দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফে যাওয়ার জন্য তাদের আইসল্যান্ডের চেয়ে ভালো ফল করতে হবে।