শেষ হলো ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

গৌতম ঘোষকে জীবনকৃতী সম্মান

সপ্তাহ শেষে শেষ হলো ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠিত হলো সমাপ্তি অনুষ্ঠান। গৌতম ঘোষ, শান্তনু মৈত্র, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, হরনাথ চক্রবর্তী, অরিন্দম শীল, ইন্দ্রনীল সেন, মহুয়া মৈত্র এবং দেবসহ বাংলা সিনেদুনিয়ার একাধিক শিল্পীর উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জীবনকৃতী সম্মানে সম্মানিত করা হলো পরিচালক গৌতম ঘোষকে। চলতিবছর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। অন্যদিকে ‘বেঙ্গলি প্যানোরমা’ বিভাগে সেরা ছবি হিসেবে পুরস্কৃত হলো ‘পড়শি’। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র আঙিনার তাবড় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানর্জি বলেন, ‘আপনারা আমাদের অতিথি বটে, তবে আমরা আপনাদের নিজের পরিবারের সদস্য বলেই মনে করি। আমরা ভাইবোন। আর এই গোটা বিশ্ব একটাই পরিবার। হয়তো আমরা ভিন্ন দেশের মানুষ। তবে বাংলা ‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’ মন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা পারস্পারিক বোঝাপড়ায় বিশ্বাসী। বাংলার মানুষ যেমন ভালোবাসতে জানে, তেমনই আতিথেয়তাও জানে। কিফ-এ যোগ দেওয়া ৩৯টি দেশের সমস্ত সিনেব্যক্তিত্বদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য আজ আমি এখানে এসেছি।’ 

 এরপরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেনির্মাতাদের টলিউডের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার আমন্ত্রণ জানান মমতা। তিনি আরও বলেন, আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আসার জন্য। পরেরবারও আসবেন। আশা করি, আগামী দিনে সুনিশ্চিত কোনো লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা নিয়ে ফিরবেন। বাংলায় পরিকাঠামো আছে। প্রতিভাও আছে। লোকেশন হিসেবে জঙ্গল-জলাশয় থেকে বঙ্গোপসাগর রয়েছে। পাহাড়ি এলাকাও পাবেন। বাংলার পরিচালক, শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করুন। হলিউড খুব জনপ্রিয় বটে, বলিউডও তাই। ওদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা আছে। তবে বাংলা ভারতের কালচারাল ক্যাপিটাল। তাই আপনারা যদি টলিউডের সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ করেন আমি কথা দিতে পারি, টলিউড বিশ্বের সেরা সিনেমা উপহার দিতে পারে। যদি আপনারা একটু পাশে থাকেন। আমরা চাই বাংলা সিনেমা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ুক।’