যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেবার মান বাড়েনি। ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠী। এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের।
এদিকে জনবল সংকট ছাড়াও সার্জারি যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, অপরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ডে পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত বাথরুমসহ নানা সমস্যা রয়েছে হাসপাতালটিতে। এ হাসপাতালে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি অস্ত্রোপচার কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ভর্তি হন ৩৫-৪০ জন। চিকিৎসা দিতে না পারায় বেশিরভাগ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে জেলা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। যারা আছেন, তাদের অনেকেই নিয়মিত রোগী দেখেন না। অফিস সময়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও প্রাইভেট ক্লিনিক বা শহরের হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার আশায় এসেছিলেন। কিন্তু এখানে নেই সঠিক চিকিৎসক, নেই মানসম্মত খাবার। সব কিছুই সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে।
সেবা নিতে আসা রোগীরা নানা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে সব ধরনের সেবা থাকলেও ডাক্তার ও ল্যাব টেকনিশিয়ানরা তাদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে। দু-একটি ওষুধ ছাড়া অন্য সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না বাথরুম। চারদিকে নোংরা-অবর্জনায় ভরা।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিবেশ একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। অধিকাংশ বেড ভাঙা ও জোড়াতালি দেওয়া। রাতে ফ্যান ও লাইট না থাকায় হাসপাতাল অন্ধকারে ভুতুড়ে পরিবেশ ধারণ করে। ভর্তি রোগীদের জন্য প্রতিদিন সরকারি খরচে খাবার সরবরাহ করা হলেও তা মানসম্মত নয়। বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও নামমাত্র সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দালাল ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে রেখেছে। ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়। টেন্ডারে উল্লিখিত মানের জিনিস না দিয়ে নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।
রোগীদের নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে একই ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য সরবরাহ করছে। তাকে বারবার নিম্নমানের খাদ্য না দিয়ে ভালো খাদ্য দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হলেও গুরুত্ব দিচ্ছে না। ঠিকাদারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট চরমে। ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই হাসপাতাল চালাতে হচ্ছে। কম জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, তবে কোনো চিকিৎসক সেবা নিতে আসা রোগীদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগ তার কাছে কেউ দেয়নি।