পটুয়াখালীর দুমকিতে সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য রেজওয়ানা নাসরিন মালার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা ও টিউবওয়েল দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে এ ঘটনা। ভুক্তভোগী পরিবার বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদনে এ অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খলিলুর রহমানের ছেলে প্রতিবন্ধী মিরাজ হোসেনের ভাতার কার্ড তৈরিতে ইউপি সদস্য মালা তার নিজস্ব মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। পরে ভাতার টাকা তিনিই উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ। একই পরিবারের কাছে দুই বছর আগে টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে তিনি ৩০ হাজার টাকা নেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিউবওয়েল না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে ২০ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকি ১০ হাজার টাকা দেননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে মিরাজের স্ত্রী সিমা বেগম বলেন, তার স্বামী মিরাজের প্রতিবন্ধী ভাতার ১২ হাজার ৩০০ টাকাও ইউপি সদস্যের মোবাইল সিম ব্যবহার করে উত্তোলন করা হয়েছে। এতে পরিবারটি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী সিমা বেগম বলেন, টিউবওয়েল পাইনি, বাকি টাকা ফেরতও দিচ্ছেন না। স্বামীর ভাতার টাকাও তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নে ভাতার কার্ড ও বিভিন্ন সুবিধাভোগী প্রকল্পের নামে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেজওয়ানা নাসরিন মালা ২৮ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বরাদ্দ না পাওয়ায় টিউবওয়েল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টাকা ফেরত দিয়েছি। প্রতিবন্ধী ভাতার টাকাও যথাসময়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান সোহরাব বলেন, অভিযোগ নিস্পত্তির জন্য তাদের ডাকা হয়েছে। আগামী সোমবার গ্রাম আদালতের নির্ধারিত তারিখে উভয়ের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সুরাহার চেষ্টা করা হবে।