লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে দলীয় প্রার্থী না দেওয়ায় তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এতে তৃণমূল বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলে ধরে নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাবিধ তথ্য তুলে ধরে লেখা-লেখি করছেন।
সারা দেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে দলের একক প্রার্থী সাবেক দুই বারে সাংসদ এ বি এম আশরাফ উদদিন নিজানকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
এ সময় দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে ও আগামীর নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম আশরাফ উদদিন নিজান বলেন, ২ বছর থেকেই জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রামগতি-কমলনগরে ৪২ হাজার নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করছি। রামগতি-কমলনগরে গত ১৪ মাসে ১৬২ ওর্য়াডে মহিলা সভা করতেছি। নির্বাচনী প্রচারে পাড়া-মহল্লায়, গ্রামের চায়ের দোকান, হাট-বাজারে মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ করেছি।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিকে আমি মনে করি সাদকায়ে জাহরিয়া। জনগণের চিন্তা-চেতনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার বাহিরে আমার যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। মার্কায় নেতাকর্মীদের কিছু যায় আসে না। তারা মনে তাদের মার্কা এবং প্রার্থী আশরাফ উদদিন নিজান।
তিনি বলেন, আজও উপজেলার তোরাবগঞ্জে উঠান বৈঠকে মহিলা সভা শেষ করেছি। মহিলারা জানান তাদের প্রার্থী ও মার্কা নিজান সাব। এসব দেখে নিজেকে স্থীর রাখতে পারিনি। গত ২৮টি বছর তাদের সঙ্গে কাটাচ্ছি। নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। কিভাবে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বিফলে রেখে যায়? নেতাকর্মীদের আশা পূরণের তাদের সঙ্গে থাকব।
উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, এই আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে দুই বার ভোট করে বিজয়ী হন নিজান সাহেব। অনেক প্রার্থী তার কাছে জামানত বাজেয়াপ্ত হন। জামানত বাজেয়াপ্ত প্রার্থীদের বিএনপির জয়ী আসন ছেড়ে দিবে? তিনি প্রার্থী না হলে অন্যরা প্রার্থী হবে। দল তো কাউরে ধরে রাখতে পারবে না। তাহলে আমাদের মতো নেতাকর্মীদের কী হবে? গত ১৭ বছরে রামগতি-কমলনগরে ১০০ মামলায় প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী আসামি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার নেতাকর্মী জেল খেটেছেন। নির্যাতনে ৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ভোটের মাঠে না থাকলে এসব নেতাকর্মীদের কি জবাব দিবেন তিনি? তাই ভোটের মাঠে কোনো ধরনের ছাড় নয়। আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার ফল এ বি এম আশরাফ উদদিন নিজান।
রামগতি-কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও জামাল উদ্দিন বলেন, বিগত ২৮ বছরের যে নেতা সুখে-দুঃখে ও হামলা মামলা নির্যাতনে পাশে ছিল তাকে দল মনোনয়ন না দিলে আমাদের কিছু যায়-আসে না। আমাদের দলীয় মার্কা আশরাফ উদদিন নিজান। তার নির্দেশে আমরা গত দুই বছর থেকে মাঠে ভোট করতেছি। দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যের প্রতীক নিজান সাব।