আশা করব মুশফিক ভাই ১০০ টেস্টের পরও খেলে যাবেন

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই প্রশ্নোত্তরের চুম্বক অংশ দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য সিলেট থেকে তুলে ধরেছেন সামীউর রহমান

অধিনায়ক হিসেবে ব্যাটিংয়ে সাফল্য

নাজমুল হোসেন শান্ত : ব্যাট করার সময় ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেই পছন্দ করি। আমার ভেতরে একবারের জন্য মনে হয় না যে আমি ক্যাপ্টেন হিসেবে খেলছি। চিন্তা করি যে কীভাবে ব্যাটসম্যান হিসেবে কন্ট্রিবিউট করতে পারি ওটাই প্রধান চিন্তা থাকে। যখন ফিল্ডিংয়ে থাকি তখন আমি ক্যাপ্টেন হিসেবে আমার যে রেসপন্সিবিলিটিগুলো ওগুলা আমি চেষ্টা করি পালন করার।

গত জুন মাসে যখন আপনি জানালেন যে আপনি ক্যাপ্টেনসি করবেন না তারপরে এই কয়টা মাস থেকে আবার ক্যাপ্টেন হওয়া পর্যন্ত যেভাবে কাটল

শান্ত : প্রথম কিছুদিন কঠিন ছিল টু বি ভেরি অনেস্ট বাট হ্যাঁ তারপরে অনেকটা রিলাক্স হয়ে গেছিলাম এবং ইনজয় করেছি পুরো সময়টা। নিজেকে সময় দিয়েছি পাশাপাশি ফ্যামিলিকে সময় দিয়েছি। নিজের ক্রিকেটটা আরেকটু কীভাবে ইমপ্রুভ করা যায় স্কিল ওয়াইজ মেন্টালি এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছি বাট আমি মনে করি যে ওই সময়টা আমার খুব ভালো কেটেছে।

পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসকে ১০০-তে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে সাফল্যের হার প্রসঙ্গে

শান্ত : ভাই মাত্র মনে হয় ৩৮ ম্যাচ খেলছি সো এখনই এত লম্বা মানে এত ভালো ভালো কথা শোনার আসলে অভ্যাস আমার নেই তো। আমার মনে হয় যে যদি এই যে মুশফিক ভাই ৯৯টা টেস্ট খেলে ফেলেছেন ওই ৯৯, ১০০, ১৫০ টেস্ট খেলার পরে যদি এ রকম কনসিস্টেন্ট হতে পারি তাহলে আমি বলতে পারব যে না আমি মনে হয় ভালোভাবে আমার ক্যারিয়ারটা শেষ করতে পেরেছি। সো ভালো স্টার্ট আমি যেটা বললাম সবে মাত্র ৩৮ টেস্ট যদি ক্যারিয়ার শেষে এ রকম কনসিস্টেন্ট থাকতে পারি তাহলে ভালো লাগবে। তবে এটা চিন্তা করে করি না চেষ্টা করে যে যখন সেট হই চেষ্টা থাকে যে কীভাবে আমি বড় রান করতে পারি।

মুশফিকুর রহিম ৯৯টা টেস্ট খেললেন, শান্তর কী ইচ্ছা?

শান্ত : এত লম্বা চিন্তা করতে চাই না আমরা কারণ আমরা খুবই কম টেস্ট ম্যাচ খেলি রিসেন্টলি হয়তো আমরা লাস্ট কয়েক বছরে একটু বেশি খেলা স্টার্ট করেছি সো চেষ্টা থাকবে যে এক একটা ম্যাচ কীভাবে আমি দলের হয়ে কন্ট্রিবিউট করতে পারি। একটা একটা করে ম্যাচ যদি আমি খেলতে পারি তাহলে দেখা যাবে যে বছর শেষে বা আমার ক্যারিয়ার শেষে কতগুলো ম্যাচ আমি খেলতে পারব তখনই আসলে বোঝা যাবে বাট এত লম্বা এত দূরে চিন্তা করতে চাই না।

শ্রীলঙ্কায় টেস্টে জোড়া শতক আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে সেঞ্চুরি কোনটা বেশি চ্যালেঞ্জিং?

শান্ত : শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ডিফারেন্ট চ্যালেঞ্জ ছিল, ওখানে ওদের বোলিং অ্যাটাকটাও ডিফারেন্ট। ওদের স্পিন বেশি আমাদের খেলা লেগেছে, সো ওই জায়গাটাতে একটু ডিফারেন্ট চ্যালেঞ্জ ছিল। ওখানে যে রকম পেস বোলাররা বেশ কিছু ওভার বল করেছে কন্ডিশনটা ডিফারেন্ট। সো আমি ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে খুব বেশি আলাদা করব না বাট হ্যাঁ কন্ডিশন এবং অপোনেন্টের স্ট্রেন্থ ডিফারেন্ট ছিল ওই অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছি।

মুশফিকের ১০০তম টেস্ট নিয়ে

শান্ত : একটা এচিভমেন্ট খুবই এক্সাইটেড। আমি প্রথম দিনের প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম যে আমরা সেলিব্রেট করতে চাই প্লেয়ার হিসেবে। প্লেয়াররা আমরা চাই ওই দিনটা বা ওই পুরো পাঁচটা দিন আমরা উপভোগ করব। রেসপেক্টের জায়গা তো আছে উই অলওয়েজ যে এ রকম একটা এচিভমেন্ট আমাদের বাংলাদেশে কখনো হয়নি সো আমরা সবসময় আশা করি যে এ রকম একটা মানুষকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমাদের সম্মানটুকু দেওয়া উচিত এবং অ্যাজ এ ক্যাপ্টেন হিসেবে ওই জিনিসটা করারই চেষ্টা করব পাশাপাশি আমার মনে হয় যে আমি আশা করব যে মুশফিক ভাই ১০০ টেস্ট খেলার পরেও যেন আরও বেশি কন্টিনিউ করেন দলের হয়ে কারণ ও রকম এক্সপেরিয়েন্সড প্লেয়ার আমাদের টেস্ট টিমের প্রয়োজন। সো আমি আশা করব সেটাও যেন উনি কন্টিনিউ করেন।