কাসেমিরো-এস্তেভাওয়ে আর্জেন্টিনার মতো জয় পেলো ব্রাজিল

লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ–মতো উত্তাপ ছড়ানো এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সেনেগালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। শনিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কার্লো আনচেলত্তির দল প্রথমার্ধে ঝড় তোলে, গোল করেন এস্তেভাও ও কাসেমিরো।

তৃতীয় মুখোমুখিতে সেনেগালকে হারাতে পারলো পাচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আগের দুইবারে বরাবরই হতাশ হয়েছিল ব্রাজিল—২০১৯ সালে ড্র, ২০২৩ সালে হার। 

প্রথমার্ধে ব্রাজিলের দাপট

ম্যাচ শুরুর পর থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠ গরম করে তোলে। প্রথম ২০ মিনিটেই ছয়বার গোলের সুযোগ পায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত শট ফিরিয়ে দেন মেন্ডি, এরপর মাথেউস কুনহার হেড লাগে বারপোস্টে।

অবশেষে ২৮ মিনিটে আসে অপেক্ষার অবসান। কাসেমিরোর পাস প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারে লেগে এস্টেভাওয়ের সামনে পড়ে। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন এই উঠতি তারকা—এটি তার জাতীয় দলে ১০ ম্যাচে ৪র্থ গোল।

এর মাত্র সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। রদ্রিগোর ক্রসে ডিফেন্স ভেদ করে দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ ও শটে গোল করেন কাসেমিরো। এ সময় সেনেগালের খেলোয়াড়রা মিলিতাওয়ের অফসাইড পজিশন নিয়ে আপত্তি তুললেও VAR গোলটি বৈধ বলে নিশ্চিত করে।

৪৪ মিনিটে সেনেগাল কিছুটা চাপ তৈরি করলেও এডেরসন ও ব্রাজিল ডিফেন্স গোলবঞ্চিত করে তাদের।

দ্বিতীয়ার্ধে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল

বিরতির পর ম্যাচে তীব্রতা থাকলেও উভয় দলেরই ভুল বাড়তে থাকে। সুযোগ তৈরি কমে যাওয়ায় আঞ্চেলত্তি বদলি আনেন—গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের জায়গায় ওয়েসলি, পরে কুনহার বদলে জোয়াও পেদ্রো। পরে লুইজ হেনরিক ও লুকাস প্যাকেতাকেও নামান তিনি।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। বল দখল ও গেম ম্যানেজমেন্টে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচ শেষ করে ব্রাজিল।

বিতর্ক, উত্তাপ ও লড়াই–সব ছিল ম্যাচে

ম্যাচের শুরুতেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কুলিবালির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যযুদ্ধ হয়। দুই দলের খেলোয়াড়দের এগিয়ে এসে তাদের আলাদা করতে হয়। বারবার ফাউল, প্রতিবাদ, টানটান উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ‘প্রীতি’ ম্যাচের চেয়ে বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে।

এটি আঞ্চেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের সাত ম্যাচে চতুর্থ জয়। ১৮ নভেম্বর ফ্রান্সের লিলেতে তিউনিসিয়ার সংগে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল।