ক্যারিয়ার গড়ার অপার সম্ভাবনা

দেশের দ্রুত অগ্রসরমান গার্মেন্টস শিল্পে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে চাকরির বাজারে বর্তমানে যে কয়টি বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে তার মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। টেক্সটাইল সেক্টরের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে টেকনিক্যাল ও ম্যানেজারিয়াল পজিশন এবং বাইং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং ও শিক্ষকতায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দেখা যায়, অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ থাকলেও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। যার কারণে পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওপর বাড়তি নজর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যারমধ্যে অন্যতম ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি (আইএসইউ)।

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি (আইএসইউ) মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে, সরকার ও ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত এবং ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০’ অনুযায়ী ২০১৮ সালে ৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ’-এর এই দুই কর্ণধার, আইএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মোশাররফ হুসাইন ও ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আতিকুর রহমান সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। আইএসইউ’র উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল খান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ও  ডিপার্টমেন্ট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বুটেক্সের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল কাসেম।

গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে, স্পিনিং মিল, উইভিং ফ্যাক্টরি, ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিল, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, কম্পোজিট মিল, ডেনিম প্রজেক্ট, ওয়াশিং প্ল্যান্ট, বায়িং হাউজ, মার্চেন্ডাইজিংসহ বেসরকারি সেক্টরে কাজ করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি পলিটেকনিক ও কলেজগুলোতেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষকতার সুযোগ রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল খান বলেন, ‘শিক্ষা জীবন শেষে চাকরির বিষয়টি পরিবারের অপরিহার্য চাওয়া। চাকরির সেক্টর বাড়াতে দরকার সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ উচ্চশিক্ষার সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সে সুযোগ বেশি। পাশাপাশি আইএসইউ প্রতিষ্ঠাতারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ (প্রতিষ্ঠাতাদের) ১৯টি টেক্সটাইল বিষয়ক ইন্ডাস্ট্রিতে আছে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। এছাড়াও নিজেদের ৩০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে থাকছে ইন্টার্ন এবং চাকরির ব্যবস্থা। বিশ্বমানের  টেক্সটাইল শিল্পের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের এ শিল্পও দ্রুত এগিয়ে নিতে অবদান রাখছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।’

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি (আইএসইউ)-এর প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন এবং ডিপার্টমেন্ট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারপারসন প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল কাসেম বলেন, টেক্সটাইল শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই খাতে দক্ষ জনবল  তৈরির জন্য আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। আইএসইউ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আমরা শিল্পের চাহিদানুযায়ী পাঠক্রম, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলছি।

তিনি জানান, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উলেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের টেক্সটাইল বিষয়ক ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে অর্থাৎ ইউনিভার্সিটি ইন্ডাস্ট্র্রি লিংকেজ এডুকেশন-এর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন দক্ষ গ্র্যাজুয়েট  তৈরি করা, যারা দেশ-বিদেশের টেক্সটাইল খাতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তাই প্রযুক্তিনির্ভর এ যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনও জরুরি। আইএসইউ সবসময় শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান ও শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর আইএসইউ সেই দিকেই দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। আইএসইউর প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা একদিন দেশ-বিদেশে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পরিচয় দেবে এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার মিম জানান, ‘চমৎকার পড়াশোনার পরিবেশ, সুদক্ষ শিক্ষকম-লী, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরির এক অনন্য সমাবেশ আমাদের এই প্রিয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।  শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি প্রতি সেমিস্টারেই বিভিন্ন নামকরা টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে ভিজিট-এর সুব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের হাতেকলমে শেখার এক অসাধারণ সুযোগ প্রদান করে। ইউনিভার্সিটিতে সুদক্ষ শিক্ষকম-লী দ্বারা পরিচালিত শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন  সেমিনার এবং ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয় প্রতিনিয়ত, যেখানে উপস্থিত থাকেন বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা তাদের দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে যেমন থিউরিটিক্যালি সাউন্ড হচ্ছে, তেমনি জানতে পারছে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির চলমান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা নিয়ে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মহাখালীতে পুরো ক্যাম্পাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সিসিটিভি, মাল্টিমিডিয়া প্রোজেক্টর সুবিধা-সংবলিত ক্লাসরুম, ওয়াই-ফাই সংযোগসহ সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। এটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়ার মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটে না। লাইব্রেরিতে রয়েছে বিপুল সংখ্যক বই এবং ই-বুকস। আরও আছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিভিন্ন জার্নাল। ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধাসহ সব রকম আধুনিক ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আসন বিদ্যমান থাকায় পড়াশোনার সময় শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ বিরাজমান থাকে।

ইউজিসির নির্দেশিকা অনুসারে দেশ-বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত উচ্চ  যোগ্যতাসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের ওবিই পাঠ্যক্রম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি অনুষদের অধীনে মোট ৭টি বিভাগ চালু রয়েছে। এরমধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) ও মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ)। ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (এএমএম)। আর ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর অধীনে বিএ (অনার্স) ইন ইংলিশ, এমএ ইন ইংলিশ লিটারেচার অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ও ব্যাচেলর অব ল’ (এলএলবি অনার্স)। রয়েছে মাস্টার অব পাবলিক  হেলথ।

জানা যায়, জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর বছরে দুটি সেমিস্টারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় যার মধ্যে পূর্ণ অনুদান (১০০%) থেকে শুরু করে আংশিক মওকুফসহ শিক্ষার্থীদের মোট ১৪টি ক্যাটেগরিতে স্কলারশিপ, বৃত্তি এবং ওয়েভার প্রদান করা হয়। আরও তথ্যের জন্য আইএসইউ-এর ওয়েবসাইট www.isu.ac.bd  ভিজিট করুন বা ০১৩১৩০৩৭০৭০, ০১৩১৩০৩৭০৭১, ০১৩১৩০৩৭০৭৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।