আশা জাগাচ্ছে কেইপিজেড টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট

বস্ত্রশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় হচ্ছে বিমানের কেইপিজেড ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। উপজেলার কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) ২০ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হচ্ছে। আধুনিক অবকাঠামো ও শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে এটি হবে দেশের প্রথম শিল্পভিত্তিক উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পর্যায়ক্রমে এটি বিবিদ্যালয়ে উন্নীত করার আশা কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থায়ন বাড়াতে দেশের দক্ষ জনশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমন প্রত্যাশা নিয়ে শুধু টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট নয়, কেইপিজেডে গড়ে তোলা হচ্ছে বিমানের মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নার্সিং কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেইপিজেডের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্য ছাড়াও সাধারণ জনগোষ্ঠী শিক্ষার্জনের সুযোগ পাবেন। এই মহৎ পরিকল্পনার স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন কেইপিজেডের উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান কোরীয় নাগরিক কিহাক স্যাঙ।

কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে নিজস্ব অর্থায়নে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের সাতটি ক্যাম্পাসে ৮০০ শিক্ষার্থী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে ফ্যাশন ও ডিজাইনের ওপর উচ্চতর শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই বিদ্যাপীঠে মেয়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে সংরক্ষিত আসন  থাকবে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার জন্য আধুনিকমানের বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং ল্যাবসহ শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণের পূর্ণ সুবিধা রাখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন, ক্যান্টিন, পরিবহন সুবিধাসহ সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থাকবে।

চার বছর মেয়াদি টেক্সটাইল শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও পাবেন। এ ছাড়া কেইপিজেডের ৪৮টি শিল্প-কারখানায় কর্মরত প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিকও স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ কোর্স করতে পারবেন। এসব প্রশিক্ষণার্থী দেশ-বিদেশে কর্মক্ষেত্রে আলো ছড়িয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, টেক্সটাইল শব্দটি সর্বপ্রথম ওভেন বা বোনা কাপড়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। তবে বর্তমানে টেক্সটাইল শব্দটি একটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ। এর মধ্যে সব ধরনের ফাইবার, যেমন : তুলা, পাট, উল, মিল্ক ও হেম্প ইত্যাদি। এ ছাড়া কিছু প্রক্রিয়া আছে; যেগুলো ছাড়া টেক্সটাইল অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যেমন উইভিং, নিটিং, ডাইং, ফিনিশিং ইত্যাদি। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে বিশে^র একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যেখানে টেক্সটাইল পণ্যগুলোর উন্নয়ন, উৎপাদন এবং পরিবেশ বাঁচানোর প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বর্তমানে এই টেকনোলজি ছাড়া পৃথিবীকে চিন্তা করা অসম্ভব। কেননা মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত টেক্সটাইলের ব্যবহার হয়। আমাদের দেশে যে পরিমাণ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন, তার অর্ধেকও নেই। তাই এ টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করে যে কেউ সহজেই চাকরি পেতে পারেন।

কেইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন কাজের মধ্যে নতুন কিছু শিখি, তবে প্রশিক্ষণ পেলে সেই অভিজ্ঞতাকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। এতে কর্মক্ষেত্রে সুযোগ বাড়বে আর নিজের ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল হবে।’

এ বিষয়ে কেইপিজেডের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘ইনস্টিটিউট অবকাঠামোর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। ইতিমধ্যে সাতটি ক্যাম্পাস প্রস্তুত হয়েছে। আরও বেশ কিছু কাজ বাকি আছে, পাশাপাশি অনুমোদনের বিষয়েও প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু ঠিক হলে ২০২৭ সালে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করার আশা রয়েছে।’

কেইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘পোশাকশিল্পে এখন নিত্যনতুন প্রযুক্তি যোগ হচ্ছে, বিবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা হবে। আমাদের লক্ষ্য, পোশাকশিল্পে দক্ষ ও পেশাদার মানবসম্পদ তৈরি করা। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগে আগ্রহী ও শিল্প খাত এগিয়ে যাবে।’