টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকলে লেখা পড়া করবে কখন: খন্দকার মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, শিক্ষা মানোন্নয়ন শুধু প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করতে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অত্র বিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, লেখাপড়ার সময় ফার্স্ট হওয়া, সেকেন্ড হওয়া, থার্ড হওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা হতো। এগুলো নিয়ে কম্পিটিশন থাকেই। আমাদের সময় প্রকৃত কম্পিটিশন ছিল, ওখানে কোনও খাতিরের ব্যাপার ছিল না। তখন একটা পজিশন পেতাম। আমার সাথে কম্পিটিশন যারা ছিল জানতাম যে তারা প্রাইভেট পড়ে। প্রাইভেট পড়ে ভালো রেজাল্ট করতো। এই স্কুলের শিক্ষক সেই প্রাইভেট পড়ানোয় জড়িত ছিল এবং সেই ছাত্রকে বলতো যে অমুক শিক্ষকের ছাত্র, আবার মেট্রিকে ফাস্ট ডিভিশনও পেয়েছে, কিন্তু ভবিষ্যতে আর ভালো রেজাল্ট  করতে পারেনি এটা খুবই দুঃখজনক। প্রাইভেট পড়ে ফাস্ট ডিভিশন পেয়ে সেই ছাত্র সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। এই অভিজ্ঞতার কথা এ কারণে বললাম, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নিকট প্রাইভেট পড়ার জন্য সময় দেয়, কিন্তু ক্লাসে সময় দেয় না। প্রকৃত শিক্ষা লাভ করতে ক্লাসে সময় দিতে হবে।

মোবাইল ফোন নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ বলেন, টেলিফোন (মোবাইল) হাতে থাকলে লেখা পড়ার বিষয় বস্তুর অভাব নাই, কিন্তু শিক্ষার্থীরা যদি টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাহলে প্রকৃত লেখা পড়া কোন সময় করবে। আমি বলবো প্রকৃত ভাবে লেখাপড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে অগ্রসর না হলে ফোনের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া যায় না, হতে পারবা না। তাই জ্ঞান অর্জনে মন দিয়ে লেখা পড়া করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অত্র বিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষার্থী স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব মো. নিজাম উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম এ লতিফ ভুইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

পরে প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন  ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।