গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার করা মামলাকে কেন্দ্র করে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নাস ও কর্মচারীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত ১২ নভেম্বর একটি মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী মোজাম্মেল হকের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় গত ১৪ নভেম্বর মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা  কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসাইনকে প্রধান আসামি আরও ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে  ঈশ্বরগঞ্জ  থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর কর্তব্যরত হাসপাতালের একমাত্র নিরাপত্তা কর্মী শাকিল আহম্মেদকে আটকের পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্ক শুরু হয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সরেজমিনে হাসপাতেলে গিয়ে দেখা গেছে,  শিশু, অ্যানেসথেসিয়া,অবস অ্যান্ড গাইনী, অর্থোপেডিকস অ্যান্ড সার্জারি ও অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) কর্নার কক্ষে কেউ নেই। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসারের ২২ নম্বর কক্ষে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও কোনো চিকিৎসক নেই। স্বাস্থ্য পরিদর্শকের (ইনচার্জ) কক্ষটিও ছিল খালি। সবচেয়ে মানবেতর ও ভোগান্তি ছিল সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কক্ষের সামনে। ওই কক্ষের সামনে সকাল থেকে শিশুদের নিয়ে মায়েরা অপেক্ষা করছিল নিয়মিত টিকা দেওয়ার জন্য। কিন্তু ইপিআইয়ের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ইলিয়াস খান গ্রেপ্তার আতঙ্কে কক্ষে না থাকায় শিশুদের নিয়ে উপস্থিত মায়েরা ভোগান্তিতে পড়েন। 

সন্তানদের টিকা দিতে আসা শাহিনুর আক্তার ও রিনা বেগম বলেন,ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এসেছি টিকা দিতে। কিন্তু দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও কেউ টিকা দিতে আসেনি। বাধ্য হয়ে টিকা না দিয়ে দিয়েই বাসায় ফিরে যাচ্ছি।  

ইপিআইয়েরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ইলিয়াস খান বলেন, ঘটনার দিন আমি টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমে ব্যস্ত ছিলাম। তবুও শোনতেছি আমি মামলার আসামি। তাই গ্রেপ্তার আতঙ্কে অফিস করতে পারছি না। কখন যেন পুলিশ চলে আসে।  পরে সাংবাদিকদের অভয় ও আশ্বাসে তিনি কক্ষে এসে টিকা কার্যক্রম শুরু করেন। এইভাবেই গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছিল নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যেও।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুমাইয়া হোসেন লিয়া বলেন, হাসপাতালের একমাত্র নিরাপত্তাকর্মী শাকিলকে অন-ডিউটি অবস্থায় পুলিশ নিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে এবং মামলায় হয়রানির ভয়ে আছেন। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও ইমার্জেন্সিসহ সকল বিভাগ খোলা আছে।

তিনি বলেন, আমরা আমৃত্যু রোগীর জন্য কাজ করে যাব। হাসপাতালের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। শুনেছি বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ আরও কিছু অজ্ঞাত রেখে মামলা করা হয়েছে। এ কারণেই সবার মাঝে আতঙ্কটা বেশি হচ্ছে। ঘটনার দিন আমি ছুটিতে ছিলাম তারপরও শুনতেছি আমিও নাকি মামলার আসামি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইন বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে  হাসপাতালের বাহিরে। আমার হাসপাতালের কেউ সেখানে জড়িত ছিলাম না। বাহিরের কিছু লোকের সঙ্গে গণ্ডগোলটি বাধে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে শুনতে পেরেছি মামলায় আমাকেই প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং আমার হাসপাতালের কিছু স্টাফকে মামলায় জড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন  কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমার সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় হতে পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে। 

এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ঘটনার ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন কাউকে আটক করা হবে না।