শহীদরা সুবিচার পেল

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ-নিরপেক্ষ, প্রশ্নাতীতভাবে আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে’ এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলেছে, ‘রাষ্ট্র বা সরকারের কোনো প্রধান, বা কর্তাব্যক্তি, রাজনৈতিক কোনো নেতা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তারা যেন আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তা এই রায়ে প্রতিষ্ঠিত হলো।’ গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র বা সরকারের কোনো প্রধান, বা কর্তাব্যক্তি, রাজনৈতিক কোনো নেতা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তারা যেন আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তা এই রায়ে প্রতিষ্ঠিত হলো। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হয়ত ক্ষতিপূরণ সম্ভব না, তবে আজকের এই রায়ে কিছু স্বস্তি তাদের হৃদয়ে এসেছে। কারণ সুবিচার তারা দেখতে পেল।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি আইনের শাসন এবং বিচারের ইতিহাসে একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ। কারণ কোনো একজন সরকারপ্রধানের সর্বোচ্চ সাজার রায় হলো আজ। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং আপনারা দেখেছেন আজকে রায়ের দীর্ঘ সময় ধরে যে বিচারকরা রায় পড়েছেন সেখানে ফুটে উঠেছে যে অপরাধীরা কি পরিমাণ নিষ্ঠুর ঘৃণ্য প্রতিহিংসামূলক অপরাধ করেছে। তাদের পত্রপত্রিকা অডিও-ভিডিও তাদের টেলিফোনিক কনভারসেশনের যে সব তথ্য হুবহু ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে, রায়ের মধ্যে কোট আনকোট সেগুলো পড়ে শোনানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই বিচারের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ কারও নেই। কারণ বিচার স্বচ্ছ হয়েছে, নিরপেক্ষ হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে জামায়াতে ইসলামীর প্রিয় নেতাদের ব্যাপারে যে বিচার হয়েছে ট্রাইবুনালে সেই বিচার নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা দুনিয়াতে এটা প্রশ্নবিদ্ধ, আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। সে বিচারের বাদী সাজানো, এজাহার সাজানো, মামলা সাজানো, সাক্ষী সাজানো, বিচারক সাজানো, রায় সাজানো আদালতের চত্বর থেকে সাক্ষীকে গুমের ঘটনা ঘটেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, ড. এইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সেলিম উদ্দিন।

দাম্ভিক, স্বৈরাচার হাসিনার এই পরিণাম আগামীর শাসকদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে-মামুনুল হক : রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, ‘এ রায় বিচার বিভাগের অনন্য দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় দেশের মানুষের জন্য একটি আনন্দঘন উপলক্ষ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ইতিহাসের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো বিচার বিভাগের । বিগত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় দেশপ্রেমিক জনতার ওপর ইতিহাসের নৃশংস হামলা চালায় শেখ হাসিনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই বিচারের মধ্য দিয়ে জুলুম, নির্যাতন অত্যাচার এবং মানুষের অধিকার হরণ করে কেউ নিস্তার পায় না। দাম্ভিক, স্বৈরাচার হাসিনার এই পরিণাম বাংলাদেশের আগামীর সব শাসকের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

মামুনুল হক বলেন, ‘নিরীহ মানুষের রক্তে আর কারও হাত রঞ্জিত না হোক। নিহত শাহাদাতপ্রাপ্ত বীর শহীদানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সেই সঙ্গে যারা আপনজন হারিয়েছেন আজকের ঐতিহাসিক রায়ের মধ্য দিয়ে তাদের অন্তর কিছুটা প্রশান্তি পাবে। যারা জীবনের তরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তারা সান্ত¡না নিয়ে জীবনের অবশিষ্ট সময়টুকু অতিবাহিত করতে পারবেন।’ শেষে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত স্বৈরাচারমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধে এ রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে ইসলামী আন্দোলন : গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, ‘রায় ঘোষণার দিনটি দেশবাসীর জন্য আনন্দের দিন। এই রায়ে মজলুম জনতার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হলো। এই রায় স্বৈরতন্ত্র রোধে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে একটি বিস্তৃত অপরাধচক্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই রায় সেই চক্রের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র। পর্যায়ক্রমে সব দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

ইউনুস আহমদ বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে রায় বাস্তবায়ন এখন সরকারের দায়িত্ব।’

পলাতক গণহত্যাকারী হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে : হেফাজতে ইসলাম

শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও আল্লামা সাজেদুর রহমান। তারা বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের বিচার বানচাল করতে ইন্ডিয়ার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। শহীদদের পরিবারে প্রশান্তি এসেছে। শোকে পাথর হওয়া মজলুমদের চোখ ও হৃদয়গুলো আনন্দে সিক্ত হয়ে উঠেছে। এজন্য আল্লাহর দরবারে আমরা শুকরিয়া আদায় করছি। ফ্যাসিস্টদের বিচার বানচাল করতে ইন্ডিয়ার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।’

তারা আরও বলেন, ‘জুলাই গণহত্যা ছাড়াও পিলখানা হত্যাকান্ড ও শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার দ্রুত শুরু করতে হবে। ভারতের চিহ্নিত সেবাদাস জাতীয় পার্টি ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারপূর্বক আজীবন নিষিদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় চব্বিশের পরাজিত শক্তি ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।’