নরেন্দ্র মোদির মায়ের চরিত্রে রাভিনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবেন মোদিকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে বায়োপিক। গত সেপ্টেম্বরে নির্মাতারা যখন সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, তখন থেকেই বলিউডে বেশ আলোচনা চলছিল–প্রধানমন্ত্রীর মায়ের চরিত্রে কাকে দেখা যাবে? অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, হীরাবেন মোদির চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন। চলচ্চিত্রটি সম্ভাব্য নাম ‘মা বন্দে’, পরিচালনায় রয়েছেন দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রান্তি কুমার চৌধুরী। তার পরিচালনায় এটি হবে প্রথম হিন্দি বায়োপিক, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। 

নির্মাতাদের কাছ থেকে জানা গেছে, ছবিটি শুধুই রাজনৈতিক জীবনের গল্প নয়; বরং তুলে ধরা হবে এক মায়ের সংগ্রাম, তার বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করে তোলার লড়াই। সিনেমায় মোদির চরিত্রে অভিনয় করছেন মালয়ালম সুপারস্টার উন্নি মুকুন্দন। তাঁর মোদি-লুক প্রকাশের আগেই ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে। নির্মাতারা বলছেন, শৈশব থেকে তরুণ বয়স পর্যন্ত মোদির জীবনধারা, তাঁর মায়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক, অভাব-অনটনের দিনগুলো এবং হীরাবেনের অবিচল মানসিকতার গল্প থাকবে সিনেমাজুড়ে। 

রাভিনা ট্যান্ডন জানান, হীরাবেন মোদির জীবন তার গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি সাধারণ গুজরাটি পরিবারের গৃহিণী হয়েও কীভাবে নিজের সন্তানদের মানুষ করেছেন, সৎপথে চলতে শিখিয়েছেন। এসব জানার পরই চরিত্রটির প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হীরাবেন মোদি ছিলেন এক নিঃশব্দ শক্তি। তার হাতে তৈরি হয়েছে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী এক নেতা। বাস্তব জীবনের এমন শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করা আমার কাছে এক বিশেষ সম্মান।’ 

২০২২ সালে হীরাবেন মারা যাওয়ায় রাভিনার সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তাই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি পুরোনো ভিডিও, পরিবার– ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ এবং নানা আর্কাইভাল ফুটেজের ওপর নির্ভর করছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, রাবিনা ইতোমধ্যেই গুজরাটি উচ্চারণ, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং হীরাবেনের অভ্যাস শেখার জন্য বিশেষ কোচিং নিচ্ছেন। নির্মাতাদের দাবি, বায়োপিকটি আদতে মা-ছেলের সম্পর্কের দীর্ঘ যাত্রা। নরেন্দ্র মোদি যখন চাওয়ালা ছিলেন, তখন থেকে শুরু করে তার রাজনৈতিক যাত্রা– সবকিছুর আড়ালে যে একজন মায়ের নিঃশব্দ ত্যাগ লুকিয়ে আছে, সিনেমাটি সেই গল্পই বলবে। 

হীরাবেন মোদি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনের মানুষ। বাড়ির প্রতিটি কাজ নিজে করতেন, নিয়মতান্ত্রিক ছিলেন এবং সন্তানদের ‘সৎপথে চলা’কে জীবনের প্রধান শিক্ষা হিসেবে দিতেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার মা ‘সংযম, সততা এবং আত্মনিবেদন’ তিনি শিখেছেন মায়ের কাছ থেকেই। বায়োপিকটিতে এই মানবিক দিকগুলোই তুলে ধরা হবে। নির্মাতারা আশা করছেন, বায়োপিকটি শুধু রাজনৈতিক দর্শকদের নয়, বৃহত্তর দর্শকের মন ছুঁয়ে যাবে।