'আমাদের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে পেরেছি', ভারতকে হারিয়ে হামজা

হংকং এর সঙ্গে শেষ সময়ে গোল খেয়ে হারের পর মাঠ ছাড়ার সময় হামজা চৌধুরী বলেছিলেন, কখনো কখনো একটু ভাগ্যের ছোঁয়াও লাগে। ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর হামজা সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন, নিজেদের ভাগ্য এবার নিজেরাই গড়ে নিয়েছেন। ম্যাচের আগের দিন ড্রেসিং রুমে এসেছিলেন সবাই, নিজেরাই প্রতিজ্ঞা করেছেন পরদিন জিতেই এখানে ফিরবেন।

সংবাদ সম্মেলনে হামজা  বলেছেন, 'আল্লাহ'র রহমতে আমরা জিতেছি। আমরা আমাদের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে পেরেছি। সবশেষ ৪টা ম্যাচে, চেঞ্জিং রুমে ফিরেছি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়ে। গতকালকে চেঞ্জিং রুমে আমরা বলেছিলাম, এখানে আমরা জয়ীর বেশেই ফিরে আসতে চাই। একসঙ্গে উদযাপন করতে চাই। এই দলটা দূর্দান্ত। দর্শকরাও অসাধারণ। আমরা তাদেরকে উদযাপনের জন্য একটা উপলক্ষ্য দিতে চাই। এই ম্যাচটার জন্য আমরা পরিবারের থেকে দূরে অনেকটা সময় কাটিয়েছি। একটা ভাল সমাপ্তি সবারই প্রাপ্য।'

জয়ের পর মাঠে আসা দর্শকদের সঙ্গে সেলফি তোলেন হামজা। ছবি : মোশারফ হোসেন।

ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই তো জিতেছেন হামজা, আছে অনেক স্মরণীয় মুহূর্তও। ভারতের বিপক্ষে এই জয়টা সেই সবকিছুকে ছাড়িয়ে কি না এমন প্রশ্নে লেস্টার সিটির এই খেলোয়াড়ের উত্তর, 'অবশ্যই স্বপ্ন সত্যি হবার মত ঘটনা। মানুষের তো স্বপ্ন আর একটা  নয়! এটা আমার অনেকগুলো স্বপ্নের একটা আর ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করব, আমরা সবাই সমর্থ আছি, আমরা সময় আর ধৈর্য্য নিয়ে দল গঠন করছি, আমাদের অনেকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। জায়ানের জন্য এরকম মাঠভর্তি দর্শকের সামনে  খেলার অভিজ্ঞতা নতুন, চাপটা ধরে রাখা কঠিন, সে দারুণ খেলেছে, বেশ কিছু ক্রসে সম্ভাবনা তৈরি করেছে।'

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে দলের সদস্যদের দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আত্মত্যাগেও মুগ্ধ হামজা, 'আমি আসলে ক্যাম্পে একেবারে শেষে যোগ দিয়েছি। কোচ, কোচিং স্টাফ, আর খেলোয়াড়রা প্রায় ২৩ দিন ধরে এখানে আছে। কোচ বলেছেন ৫০০ ঘন্টার বেশি। পরিবার থেকে দূরে, হোটেলে থেকে দেশের জন্য পরিবারের জন্য পরিশ্রম করে গেছে সবাই। আলহামদুলিল্লাহ, আজ তার ফল মিলেছে। আমি আর শমিত একটু দেরিতে যোগ দিয়েছি, এসে দলের মান একটু বাড়িয়েছি, একটু মানসিকভাবে এগিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছি, আমরা সেই মানসিক দৃঢ়তাই দেখিয়েছি। শেষ চারটা ম্যাচে আমরা ভাল খেলেছিলাম, দারুণ বল দখল ছিল, কৌশলগত ভাবেও ভাল ছিলাম, শুধু শেষ ধাপে হোঁচট খাচ্ছিলাম। আজ উল্টোটা হলো। হয়তো বল পায়ে ততটা ভাল ছিলাম না, তবে শেষদিকে দৃঢ়তা দেখিয়েছি। এবারে দুটো ভালো দিককে এক করতে হবে।'