জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় (জামালপুর-২) বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামপুর পৌর শহরের থানা মোড় বটতলায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তিন রাস্তার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করেন বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। এ সময় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন সরকার, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ দানু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তারা, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেলিম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক ডেভিটসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব এ এস এম আব্দুল হালিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের অধিকার, নদীশাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে, শিক্ষার মানোন্নয়ন, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে ১৪টি হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়। তিনি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার নেতৃত্ব, সততা এবং জনপ্রিয়তার কারণে তাকে মনোনয়ন দিলে ইসলামপুর আসনে বিএনপির জয়লাভ নিশ্চিত হবে বলে জানান বক্তারা।
বক্তারা আরো বলেন, জামালপুর-২ আসনে যাকে বিএনপি থেকে এমপি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচন ব্যতীত ইসলামপুরে তেমন একটা আসেননি। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কোন আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেননি। আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের সঙ্গে আঁতাত করে চলার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। তাই সুলতান মাহমুদ বাবুর মনোনয়ন বাতিল করে সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ এস এম আব্দুল হালিমকে মনোনয়ন প্রদানের দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাবার হুশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভ এবং কাফনের কাপড় পড়ে অবস্থান কর্মসূচীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী ও কয়েক হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৫ নভেম্বর সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে তারা।