আর এক ওভার খেলা হলে সেঞ্চুরিটা হয়তো করেই ফেলতেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু ৯০ ওভার খেলা হয়ে যাওয়ায় সে সুযোগ আজ পেলেন না। শততম টেস্টে সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় পৌছে ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। তার সঙ্গে লিটন দাস অপরাজিত আছেন ৪৭ রানে। ৪ উইকেটে ২৯২ রান তুলে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে টস জয়ী বাংলাদেশ।
ধৈর্যশীল ইনিংসে মুশফিক চতুর্থ বাউন্ডারি মেরেছিলেন দিনের ৭৩তম ওভারে। গ্যাভিন হোইকি মিডিউইকেট দিয়ে মারা চারে ৬৭ থেকে ৭১তে পৌছান তিনি। তখন থেকেই হিসেব কষা শুরু বাকি ১৮ ওভারে মুশফিক কি সেঞ্চুরি তুলে নিতে পারবেন? পঞ্চম বাউন্ডারি মেরে ৮৪তম ওভারে ৯০ ছুয়ে ফেলেন মুশফিক। দিনের শেষ ওভারের শুরুতে তার রান ছিল ৯৭। স্ট্রাইকেও তিনি। হোইয়ের তৃতীয় বলে সিঙ্গেলস নিলে লিটন পান স্ট্রাইক। লিটন সিঙ্গেলস নিয়ে মুশফিককে স্ট্রাইক ফিরিয়ে দিলে পঞ্চম বলে সুইপ করেছিলেন তিনি। বলটা একটু উঠে গিয়েছিল। ধুক করে উঠেছিল ভক্তদের মন। ক্যাচ হয়ে গেলো না তো! তা হয়নি, ডিপ স্কোয়ারলেগে বল চলে গেলে সবাই ভেবেছিল ২ রান নিয়ে সেঞ্চুরিটা করে ফেলবেন মুশফিক। কিন্তু সিঙ্গেলস নেন তিনি। শেষ বলটা লিটন খেলে দেন।
এভাবেই শেষ হয় মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা।
২৮তম ওভারে দলের ৯৫ রানের মাথায় নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ৮ রানে বিদায় নেবার পর ক্রিজে এসেছিলেন মুশফিক। মুমিনুল হককে সাথে নিয়ে ইনিংস গড়ায় মনোযোগী হন তিনি। ১০৭ রান যোগ করেছেন দুজনে। চা বিরতির পর ১০৯ বল খেলে ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিক। এর কিছুক্ষণ পর ৬৭ রান তুলে আউট হয়ে যান মুমিনুল।
লিটন দাস যোগ হয়ে রান বাড়াতে থাকেন। তবে লিটনকেও সাবধানী দেখা গেছে। ৮৬ বলে ৪৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে মাত্র ২টি বাউন্ডারি মেরেছেন।
মুশফিক ১৮৭ বলের ইনিংসে সিঙ্গেলস নিয়েছেন ৬৪টি। ডাবলস ৫টি। একটি তিন রানের শট ছিল তার।
দ্বিতীয় দিন সকালে প্রথম বলটা তাকেই খেলতে হবে। সেঞ্চুরিটা হলে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা দ্বাদশ ব্যক্তি হবেন।
লিটনেরও আজ ‘সেঞ্চুরি’ ম্যাচ; ৬ষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে ছুঁলেন দারুণ মাইলফলক