মুশফিক ভাই প্যানিক হন না

১০০তম টেস্টে দিনের শেষ ওভারে বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরি। সকালে পরিবারকে পাশে নিয়ে বিশেষ আয়োজনে যার শুরু, দিনের শেষে ১০০-তে সমাপ্তি। কী নাটকীয় একটা দিনই না হতে পারত! মাত্র ১ রানের জন্য মধুরেণ সমাপয়েৎ হলো না। মুশফিক ৯৯ রানে অপরাজিত। আইরিশদের একাদশে পেসার মাত্র ১ জন, স্পিনার ৩ জন, তাই দিনে ৯০ ওভারের চেয়ে এক-দুই ওভার বেশি হতেই পারত। তবে শেষ আধঘণ্টায় আইরিশ অধিনায়ক একটু চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছেন। বোলারদের বলেছেন একটু সময় নিয়ে বল করতে, ফিল্ডিংয়ে বদল এনেছেন বারবার। ব্যক্তিগত মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া মুশফিক ও লিটন দাসের ওপর মানসিক চাপ বাড়াতে চেয়েছেন। তাতে মুশফিক স্ট্রাইকে থাকার জন্য একটা ঝুঁকিপূর্ণ রান নিয়েছেন, গোটা ইনিংস সতর্কভাবে খেলে শেষবেলায় একটা সøগসুইপও খেলেছেন। তবুও তিন অঙ্কে পৌঁছানোর আক্ষেপটা রয়েই গেছে প্রথম দিন শেষে। যদিও সতীর্থ মমিনুল হকের বিশ্বাস, আজ সকালে সেই পরম আরাধ্য ১ রান নেওয়ার পর দ্বিগুণ উদ্যমে সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরি করার পথেই ছুটবেন মুশফিক।

আইরিশ বোলিং কোচ ক্রিস ব্রাউনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা (মুশফিক ও লিটন) একটা ওভার বাড়তি খেলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন কি না। তার উত্তর ছিল কূটনৈতিক, ‘যে দুজন আম্পায়ার আছেন তারা অত্যন্ত ভদ্রলোক এবং আমার জানা মতে তাদের সময়জ্ঞান খুব ভালো।’ মমিনুল হক অবশ্য এত কূটনীতির ধার ধারেননি, অকপটে বলেই দিয়েছেন, ‘দিনের শেষ সময় যেটা মনে হচ্ছিল যে আজ (সেঞ্চুরি) হয়ে যাবে। যদিও ওরা লেট (ধীরে বোলিং) করছে। এই কারণে হয়তো হয়নি। আর আমিও মানে খুব বেশি উদ্বিগ্ন না, কারণ উনার তো ১০০ করা, ২০০ করার অভ্যাস আছে। আমিও জানি যে ওই জায়গায় উনি প্যানিক হয় না। নব্বইয়ের ওপর গেলে প্যানিক খুব কম হয় আল্লাহ্র রহমতে। তো ওই কারণে আত্মবিশ্বাসটা আছে যে, কালকে গিয়ে অন্য কেউ থাকলে হয়তো একটু প্যানিক থাকতাম। উনি যেহেতু আছে, আমার মনে হয় উনিও প্যানিক হয় না, আমরাও কেউ প্যানিক না। কালকে গিয়ে ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে।’ হোটেলে গিয়ে তাকে নিয়ে খুব উৎকণ্ঠায় থাকতে হবে কি না এমন প্রশ্নে হেসেই মমিনুল বলেছেন, ‘আপনারা যেভাবে চিন্তা করছেন ওই রকম না। সবসময় যে রকম ছিল ওই রকমই আছে। এখন হয়তো ফাইজলামি আরও বেশি করতে পারব, কারণ ডে বাই ডে আরও বেশি টাইম যাচ্ছে।’ বাংলাদেশ একটা ওভার বাড়তি খেলতে চেয়েছিল কি না এই প্রশ্নের উত্তরে মমিনুল বলেছেন, ‘এই সময় তো সবাই চাইবে। কারণ দুইজনেরই মাইলস্টোন ছিল। অবশ্যই যে কেউ চাইবে এই সময় করার জন্য। ওরা অবশ্যই সেøা করছে। অনেক সেøা ছিল। সবাই চাচ্ছিল (প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি হয়ে যাক)।’

দিনের খেলা শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে ড্রেসিং রুমে ফেরা মুশফিকের চোখেমুখে হতাশার কোনো অভিব্যক্তি দেখেননি মমিনুল, ‘মুখের অভিব্যক্তি দেখে তো আমার কাছে মনে হয়নি যে কোনোভাবে সে নার্ভাস ছিল, ছবি টবি তুললে হয়তো বুঝতে পারতেন। না, উনি স্বাভাবিকই ছিল। উনি আগে যে রকম ছিল, ১০০ ম্যাচ খেলার আগে যে রকম ছিল, এখনো সে রকমই আছে। বাড়তি যে তার ১০০তম ম্যাচ খেলছে, ১০০ করতে হবে ওই রকম কোনো কিছু দেখিনি আমি। সে যখন ক্রিজে আসছিল, তখন তো শূন্য রানে ছিল, তখন থেকে দেখছিলাম যে খুব ধীরস্থির ভাবেই স্বাভাবিক ক্রিকেটই খেলছিল, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করছিল। পুরোটা ইনিংস অনেক নিয়ন্ত্রিত ছিল, শান্ত ছিল অনেক।’

মুশফিকের চেয়ে টেস্ট সংখ্যায় খুব একটা পিছিয়ে নেই মমিনুলও। ৭৫তম টেস্ট খেলছেন এই বামহাতি ব্যাটসম্যান, হয়তো মুশফিকের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলবেন। মুশফিকের কীর্তি ঘিরে আয়োজনটা তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে, আবার একই সঙ্গে তার কাছে মনে হয়েছে এটা হয়তো অবসর ঘোষণারও মঞ্চ, ‘এই পরিবেশ তো এর আগে কোনো সময় দেখিনি, সত্যি কথা। এমনকি কারও অবসরের সময়ও দেখিনি। একটা সময় মনে হচ্ছিল যে  (ব্যাপারটা) রিটায়ারমেন্টের দিকে যাচ্ছে, পরে দেখলাম যে না ১০০ টেস্টের মতো যাচ্ছে। মানে মনে হচ্ছিল যে কেউ যখন অবসর ঘোষণা করে, তখন এভাবে অন্যান্য দেশে, আমাদের দেশে না, অন্যান্য দেশে এ রকম দেখি আর কি। তো আমার নিজে দেখে অনেক ভালো লাগল। তারপর আমার কাছে মনে হয় যে এই জিনিসটা এই সংস্কৃতি যদি সবসময় থাকে বাংলাদেশে, তরুণ প্রজন্ম যারা আছে, তারাও কিন্তু টেস্ট খেলার জন্য, অথবা ১০০ টেস্ট খেলার জন্য অনুপ্রাণিত হবে।’