বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুশফিকুর রহিম। আর এই বিশেষ ম্যাচটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছেন দারুণ এক সেঞ্চুরিতে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুলেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
শততম ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটারদের ছোট্ট তালিকায় নাম লিখিয়েছেন মুশফিক। যেখানে তিনিসহ এখন আছেন মাত্র ১১ জন। আর উপমহাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিকসহ মাত্র তিনজন নিজের শততম টেস্টে করেছেন শতরান।
এমন অর্জনের পর দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বললেন, এত দূর আসবেন, তা নিজেও বিশ্বাস করতে পারেননি, 'আলহামদুলিল্লাহ! এটা তো আমি নিজেও বিশ্বাস করতে পারি না… বিশেষ করে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ১০০ টেস্ট খেলবে। এটা সত্যিই বড় অর্জন। শুধু আমার জন্য বলছি না—যে কোনো দেশের, যে কারও জন্য এটা গর্বের মুহূর্ত। ভালো লাগছে যে সেই ব্যক্তিটা আমি হতে পেরেছি।'
নিজের অর্জনের দিনেও দলকেই এগিয়ে রাখলেন মুশফিক, 'বাংলাদেশের জন্য মুশফিকুর রহিম একটা ফোটা মাত্র। ব্যক্তির আগে দল, দল জিতলেই সেটা আমার জন্য গিফট হবে।'
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি আমার দাদা-দাদি ও নানা-নানিদের উৎসর্গ করতে চাই। তারা বলেছিলেন—আমার খেলা দেখার জন্য বেঁচে থাকতে চান- মুশফকুর রহিম
ম্যাচের প্রথম দিনের শেষ বিকেলে মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরিটা হয়নি মুশফিকের। সেই অভিজ্ঞতা ছুয়ে গেছে মুশফিককে, 'আমি এত বছরেও সারাদিন ব্যাট করে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকিনি। এই ম্যাচে এসে সেই অভিজ্ঞতাটাও হয়েছে।'
মাইলফলকের দিনে সবচেয়ে আবেগী উক্তি ছিল, 'শততম টেস্টে সেঞ্চুরি আমার দাদা-দাদি ও নানা-নানিদের উৎসর্গ করতে চাই। তারা বলেছিলেন—আমার খেলা দেখার জন্য বেঁচে থাকতে চান।।'
নিজের প্রিয় ইনিংসের কথা স্মরণ করে বললেন, 'যে ম্যাচে আমি প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছি, সেটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় মোমেন্ট। ওই ইনিংসের পর অনেকেই বিশ্বাস করেছে ডাবল সেঞ্চুরি করা সম্ভব।'
পেছনে থাকা সবচেয়ে বড় শক্তি—স্ত্রী। পরিবারের অবদানকে ভুললেন না মুশফিক, 'বচেয়ে বড় স্যাক্রিফাইস করেছে আমার স্ত্রী। আমি অন্যদের চেয়ে বেশি প্র্যাকটিস করি—স্ত্রী সাপোর্ট না দিলে সেটা সম্ভব হতো না। রাত জেগে বাচ্চাদের মানুষ করেছে, আমাকে কখনো চাপ নিতে দেয়নি। তার সামনে এটা বলা হয়নি, সেটা নিয়ে অভিযোগও আছে। তাকে ধন্যবাদ।'
হামজা চৌধুরীর শুভেচ্ছায় চমকে গেছেন মুশফিক। বললেন, 'হামজা চৌধুরীর উইশ দেখেছি। দেখে সারপ্রাইজড হয়েছি, খুশিও হয়েছি। সামনাসামনি দেখা হলে তাকে ধন্যবাদ জানাব।'
আগামী দিনের লক্ষ্য উত্তরসূরি তৈরির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা অর্জনের দিনে দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি, 'আমার ওপর দায়িত্বটা এখন অন্যরকম বেশি। যে কয়টা ম্যাচই খেলি, চেষ্টা থাকবে যেন তার প্রতিফলন দিতে পারি। আর যেন (অবসরে) যাওয়ার পরও ড্রেসিং রুমে এক-দুইজন ক্রিকেটার রেখে যেতে পারি, যাতে সেই গ্যাপটা পূরণ হয়।'