বন্দরে বিদেশিদের সঙ্গে কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তি সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আদানি চুক্তির মতো এই সরকারও একই পথে হাঁটছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রামের লালদিয়া ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁওতে কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তি করায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শর্ত গোপন রেখে এবং জনগণের নানা অংশের মতামত উপেক্ষা করে যেভাবে এই চুক্তি করা হয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই চুক্তি সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, অস্বচ্চ প্রক্রিয়ায় যেভাবে একটি ৩০ বছর আর একটি ২২ বছরের পরিচালনা জন্য দুটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে লিজ দেওয়া হয়েছে দেশপ্রেমিক কোনও সরকার এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে না। অন্তর্বর্তী চরিত্রের একটি সরকারের টার্মিনাল বিদেশিদের দেওয়ার জন্য কেন এই তাড়াহুড়া তাও পরিস্কার নয়।
তিনি আরও বলেন, বিদেশিদের হাতে কনটেইনার টার্মিনাল পোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন যুক্ত রয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা ও বোঝাপড়া ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। অতীতে সরকার জাতীয় জনমতকে উপেক্ষা করে ও জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নানা চুক্তি করায় জনরোষের শিকার হয়েছিল। ভারতীয় আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের অসম ও অন্যায় চুক্তির খেসারত এখনও বাংলাদেশকে দিতে হচ্ছে। বিস্ময়করভাবে অন্তর্বর্তী সরকারও স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকরের পথে হাঁটছে।
তিনি অনতিবিলম্বে সরকারকে বিদেশির দিয়ে ও তাদের পরিচালনায় টার্মিনাল সংক্রান্ত চুক্তি থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি অতীতে স্বাক্ষরিত দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী এই ধরনের চুক্তির পর্যালোচনা ছাড়া নতুন কোনও চুক্তি না করার দাবি জানান।
পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পার্ট ইসলাম, এমডি ফিরোজ, কেন্দ্রীয় সংগঠক বাবর চৌধুরী, যুবরান আলী জুয়েল প্রমুখ।