যে সুসংবাদ শোনাতে বারণ করেছেন নবীজি

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের ইমানকে সুদৃঢ় করার পাশাপাশি তাদের কাজকে সঠিক পথে রাখতে চেয়েছেন। তাই কখনো তিনি আশার কথা শুনিয়েছেন, আবার কখনো সতর্ক করেছেন আত্মতুষ্টির ক্ষতি থেকে। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর প্রতি তার নির্দেশনা সেই ভারসাম্যেরই নিখুঁত উদাহরণ। ইমানের মহিমা কত উচ্চ, তাওহিদের সাক্ষ্য কত মূল্যবান, সেই সত্য তুলে ধরতেই নবীজি (সা.) একটি সুসংবাদ দিয়েছেন। আবার তা প্রকাশ করতেও বারণ করেছেন।

হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহনের ওপর বসা ছিলেন। তার পেছনে ছিলেন মুয়াজ (রা.)। নবীজি (সা.) তাকে বললেন, আল্লাহর যে বান্দা খাঁটি মনে সাক্ষ্য দেবে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল’, তার জন্য মহান আল্লাহ জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।

মুয়াজ (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই সুসংবাদ কি আমি মানুষদের শুনিয়ে দেব? তারা এ খবর শুনলে খুশি হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না, শুনিও না। কারণ তারা এর ওপর ভরসা করে বসে থাকবে। পরে মুত্যুর পূর্বে হজরত মুয়াজ (রা.) হাদিস গোপন করার গুনাহ হতে বাঁচার জন্য এই হাদিসটি প্রকাশ করেন। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল’, এ সাক্ষ্য দিলে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। তবে শুধু এই বিশ্বাস ও স্বীকারোক্তিই জাহান্নামের আগুন হারাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এই ইমানের সত্যতা প্রমাণের জন্য দ্বীন ও শরিয়তের হুকুম পুরাপুরিভাবে মানতে হবে। সাক্ষের দাবি অনুযায়ী, যেসব ফরজ কাজ আদায় করার প্রয়োজন তা আদায় করতে হবে। তারপরই আল্লাহর দয়ায় জাহান্নামের আগুন তার জন্য হারাম হবে।

এ কারণেই মুয়াজ (রা.) এ সুসংবাদ মানুষকে জানাতে চাইলে রাসুল (সা.) তাকে বারণ করেন। কারণ তখন মানুষ এর ওপরই নির্ভর করবে, আমল করা ছেড়ে দেবে। মূল কথা হলো, তাওহিদ ও রিসালাতের বিশ্বাস মানুষকে অনন্তকালের জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত দেবে। কাফের মুশরেকরা যেভাবে অনন্ত কাল জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে, ইমানদাররা তেমন ভোগ করবে না। অন্যান্য ফরজ আদায় না করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। তবে চিরকাল নয়। শাস্তির মেয়াদ শেষ হলে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

লেখক : আলেম ও ধর্মীয় নিবন্ধকার