৩৬শে জুলাই বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র, আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিক্স, টেবিলের নিচের রাজনীতির কবর রচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী কলেজ মাঠে ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও ছাত্রশিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ছাত্রশিবিরের রাজশাহী কলেজ শাখা কলেজের অনার্স ১ম বর্ষ ও এইচএসসি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই আয়োজন করে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে নানান প্রোপাগান্ডা চালানো হয়, তো এই প্রোপাগান্ডার বিপরীতে আমাদের কার্যক্রম, আদর্শিক স্পষ্টতা, দৃঢ়তা, আমাদের দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রাম এই সমাজের মানুষের সাইকোলজি বুঝে এবং ছাত্র রাজনীতির যে গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন যখন আমরা সেটাকে এক্সপোজ করেছি, শিক্ষার্থীরা সেটাকে গ্রহণ করছে। এটা যখন হচ্ছে একটা শ্রেণীর মধ্যে অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা তাদেরকেও বলেছি যে ভাই আসেন, ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করি। আমরা ভালো কাজের প্রতিযোগিতা করে তখন সেটা সমাজ পুরো ভালোর একটা পরিবেশ তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু যখন ভালোর বিপরীতে খারাপের প্রতিযোগিতা হয় তখনই তো সেখানে সামাজিক কনফ্লিক্ট তৈরি হয়। সেখানে এক ধরনের হানাহানি বিদ্বেষপূর্ণ এক ধরনের অস্থিরতা পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিবির প্যানেলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের কারণ কী প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্কে বিভিন্ন সময় প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। আমরা নাকি রগ কাটি, আমরা বিভিন্ন জায়গায় এই সমস্যা ওই সমস্যা অনেক কিছু করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো যখন আমাদেরকে সামনাসামনি শিক্ষার্থীরা দেখছে, তারা তাদের কনফিউশনের জায়গাতে আরো কনফিউজ হয়ে যাচ্ছে। কি ব্যাপার এদের সম্পর্কে শুনি একটা আর এদেরকে তো দেখি আরেকটা। আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। আমরা মনে করি একজন ব্যক্তি বা বান্দা হিসেবে আমাদের নিজস্ব কোনো ক্রেডিট-যোগ্যতা-দক্ষতা নেই। আল্লাহ তা’লা যতটুকু দিয়েছেন সেটাকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি, ফাইনালি আল্লাহ তা’লা বিজয় দান করেছেন।
ছাত্রশিবিরের আয়ের উৎস প্রসঙ্গে জাহিদুল বলেন, সংগঠনের মূল আয়ের উৎস হচ্ছে জনশক্তির দান। কেন্দ্রীয় সভাপতি থেকে শুরু করে ইউনিট পর্যায়ের একজন কর্মী পর্যন্ত-প্রত্যেক সদস্যই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সংগঠনকে দান করে থাকেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ডাকসুর ভিপি ও শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম। সাদিক কায়েম বলেন, ছাত্রশিবিরের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর হাতে কোনো নারীর শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের ঘটনার কোনো নজির নেই। শিবির নারীদের সম্মান দিতে জানে। শিবিরের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা কোনো সংগঠন দিতে পারবে না এবং এই শিবিরের কাছেই নারীরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম ও সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডেশন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুইয়া, কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগরের সাবেক সভাপতি সিফাত আলম, রাকসু ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, রাজশাহী মহানগর সভাপতি মোহা. শামীম উদ্দীন।
রাজশাহী কলেজ শিবিরের সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।