জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্রলীগমুক্ত প্রথম ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’ এমন মন্তব্য করে দেওয়া ওই পোস্টকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে সারা দেশে প্রথম ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মুখে লাল কাপড় বেঁধে কর্মসূচি পালনের সূচনাও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই সবার আগে সফলভাবে করেছিলেন।
পোস্টটি প্রকাশের পরপরই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাবির সাবেক সমম্বয়ক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মন্তব্যের সমলোচনা করে এর বিপক্ষে মতামত দিতে শুরু করেন।
রাবির শিক্ষার্থীদের দাবি, ছাত্রলীগবিরোধী আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রথম ছাত্রলীগমুক্ত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তাই এমন মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাবির সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা বলেন, নাহিদ ইসলাম কি জুলাইয়ের ইতিহাস জানে আদৌ? জুলাইয়ে ছাত্রলীগমুক্ত প্রথম ক্যাম্পাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, পুরো বাংলাদেশ সাক্ষী। ১৬ জুলাই তল্পিতল্পা গুছিয়ে রাবি থেকে ছাত্রলীগ পলায়ন করে পুলিশি পাহারায়। দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঝামেলা লাগিয়ে জুলাইয়ের সুবিধাভোগীদের লাভ কি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাতভর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বীরত্ব দেখিয়েছে। তাদের সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণা। আমরা একে অপরের সহযোদ্ধা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হক আশিক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জুলাইয়ে বাংলাদেশের প্রথম ছাত্রলীগমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। সেদিন ছাত্রশিবির, ছাত্রদল অন্যান্য ছাত্র সংগঠনসহ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে ছাত্রলীগের কুখ্যাত সন্ত্রাসী আসাদুল্লাহ গালিব বাবুসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাই; জুলাইয়ের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরুন। ইতিহাসের কোনো ধরনের বিকৃতি বা বিচ্যুতি কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।