পীরগঞ্জের মাটি বিদেশি ফল চাষের জন্য উপযোগী। এখানকার মাটি মাঝারি বেলে দো-আঁশ হওয়ায় চাহিদাসম্পন্ন ফল চাষের উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিবিদ সুমন আহমেদ। এ উপজেলায় লংগান, রামভুটান, পারসিমন, সুপারফুড অ্যাভোকাডোসহ আপেল, মাল্টা, কমলা চাষ হচ্ছে।
উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের পাটগ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার বড় ছেলে ময়নুল হুদা ২০২০ সালে লেখাপড়া করতেন পীরগঞ্জ সরকারি শাহ আব্দুর রউফ কলেজে অনার্স ২য় বর্ষে ভূগোল বিভাগে। তখন ইউটিউব ও টেলিভিশনে বিদেশি ফলের চাষের ভিডিও দেখে তিনি বিভিন্ন ফল চাষে আগ্রহী হয়ে বাবার ৬০ শতক জমিতে ১১০টি গাছ দিয়ে প্রথমে মাল্টার বাগান শুরু করেন। মাত্র তিন বছরে মাল্টার পাশাপাশি আপেল, কমলা, আঙুরসহ লংগান, রামভুটান, পারসিমন, সুপারফুড অ্যাভোকাডো চাষ করছেন। মাল্টা ফল থেকে প্রতি বছর দুই-তিন লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও অন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ফল আসতে আরও দু-এক বছর সময় লাগবে। এখনই গাছে শোভা পাচ্ছে ননীফল।
গত বুধবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, ময়নুল হুদার বিদেশি ফলের বাগানে মাত্র ফল আসতে শুরু করেছে ননীফল, লংগান, সুপারফুড অ্যাভোকাডো। থোকায় থোকায় বাগানের গাছে ঝুলে আছে মাল্টা ও কমলা। আশপাশে থেকে আসা লোকজনকে তিনি ফল ও বিভিন্ন গাছের সঙ্গে পরিচয় করে দিচ্ছেন।
বাগানে কথা হয় ময়নুল হুদার সঙ্গে। তিনি বলেন, শখ থেকে বাগানে বিদেশি এসব ফলের চাষ করেছি। এখনো ভালোভাবে এসব বিদেশি ফল আসেনি। বাজারজাত করার মতো ফল আসতে আরও সময় লাগবে। তবে মাল্টা চাষে লাভবান হয়েছি। আশা করছি এসব ফলেও লাভবান হবো। আপাতত মাল্টা চাষের ওপর নজর দিয়েছি। এখন বাগানে অস্ট্রেলিয়ান, বারি-১ ও ভেরিগেটা মাল্টা জাতের গাছ আছে।
তিনি আরও জানান, চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যে ফলন শুরু হয়। তিন বছর পর একটি গাছে পূর্ণাঙ্গভাবে ফল দেওয়া শুরু করে। তিন বছর পরে প্রতি গাছ থেকে মৌসুমে ৩০০ থেকে ৪০০টি মাল্টা পাওয়া যায়। হতাশা প্রকাশ করে এ কৃষক জানান, এ মৌসুমে আবহাওয়া ভালো না থাকায় ফলের ভালো ফলন পাব না। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বাজারজাত শুরু হবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে। বর্তমানে তার বাগান পরিচর্যার জন্য চারজন লোক কাজ করেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক যুবকের মাল্টাবাগান করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, পীরগঞ্জে আপেল, কমলাসহ বিদেশি ফল চাষ হচ্ছে প্রায় ১৮ হেক্টর জমিতে। হলুদ কমলার চাষ রয়েছে এ উপজেলায়। এসব ফল চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, বিদেশি ফল মাল্টা ও কমলাসহ আপেল, কমলা, আঙুর লংগান, রামভুটান, পারসিমন, সুপারফুড অ্যাভোকাডো চাষের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছে। এখানকার মাটি মাঝারি বেলে দো-আঁশ হওয়ায় এসব ফল চাষের জন্য উপযোগী। আমরা বিদেশি ফল চাষের প্রসারের জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।