ভারত থেকে ইসরায়েলে ফিরছেন ‘হারানো ইহুদি ভাই-বোন’

ইসরায়েল সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরাম ও মণিপুরের ‘বনি মেনাশে’ সম্প্রদায়ের প্রায় ৫ হাজার ৮০০ সদস্যকে নিজ দেশে নাগরিকত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। গতকাল রবিবার (২৩ নভেম্বর) সরকারি ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়।

এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা ধাপে ধাপে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি অঞ্চলে বসতি স্থাপন করবেন। লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে গ্যালিলি অঞ্চল থেকে হাজার হাজার বাসিন্দা ইতোমধ্যে অন্যত্র চলে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও জায়োনিবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর ফলে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল শক্তিশালী হবে।

প্রথম দলে আসবেন ১,২০০ জন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরই প্রথম দলে ১ হাজার ২০০ জন বনি মেনাশে ইসরায়েলে পা রাখবেন। তাদের জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা, হিব্রু ভাষা শিক্ষা, চাকরির সুযোগ-সন্ধান, অস্থায়ী আবাসন এবং সমাজে মানিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হবে। শুধু এই প্রথম দলের জন্যই সরকার বরাদ্দ করেছে প্রায় ২৩.৮ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৭.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

গত দুই দশকে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার বনি মেনাশে ইসরায়েলে চলে এসেছেন। এবারের পরিকল্পনাটি ভারত সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে সমন্বয় করে করা হয়েছে।

কে এই বনি মেনাশে? 
বনি মেনাশে সম্প্রদায় নিজেদের বাইবেলে বর্ণিত ইসরায়েলের ‘হারানো দশ গোত্রের’ অন্যতম মেনাশি গোত্রের বংশধর বলে দাবি করেন। অনেকে আগে খ্রিস্টধর্ম পালন করলেও পরে ইহুদি ধর্মে ফিরে আসেন এবং ইসরায়েলের প্রধান রাব্বির কার্যালয় থেকে স্বীকৃতি লাভ করেন। তারা সুক্কোতের মতো ইহুদি উৎসব পালন করেন এবং নিজেদের এলাকায় সিনাগগও গড়ে তুলেছেন।

২০০৫ সালে কলকাতায় একটি জেনেটিক গবেষণায় বনি মেনাশে সম্প্রদায়ের মাতৃগোত্রীয় বংশে নিকট প্রাচ্যের পূর্বপুরুষের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। যদিও গবেষকরা বলেছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিকট ও মধ্য প্রাচ্যের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশ্র বিবাহের কারণেই এমন ফলাফল এসেছে।

একই বছর (২০০৫) ইসরায়েলের তৎকালীন সেফার্দি প্রধান রাব্বি আনুষ্ঠানিকভাবে বনি মেনাশেকে ইসরায়েলের হারানো গোত্রের বংশধর হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তারপর থেকেই তাদের অভিবাসনের পথ সুগম হয়।

গ্যালিলি অঞ্চল কেমন? 
ইসরায়েলের উত্তরে অবস্থিত ঐতিহাসিক গ্যালিলি পাহাড়ি এলাকা। এখানে রয়েছে নাজারেথ, টাইবেরিয়াস ও সাফেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর। উত্তরে লেবানন সীমান্ত, পূর্বে জর্ডান উপত্যকা ও গ্যালিলি সাগর এই অঞ্চলকে ঘিরে আছে।

ইসরায়েলের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ, আর ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যা আনুমানিক ৫৫ লাখ। জনসংখ্যা-সংক্রান্ত বিবেচনা ইসরায়েলের রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে থাকায় এ ধরনের অভিবাসন কর্মসূচি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।