ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী বাজার ও পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সালথার খারদিয়া গ্রামের ৪০০-৫০০ লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে সালথা উপজেলার খারদিয়া ও বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদীর একটি অংশের কয়েকশ লোক হঠাৎ করেই বোয়ালমারী উপজেলার তেলজুড়ী বাজার ও পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ায় ঢুকে দেশীয় অস্ত্র রামদা, ঢাল, সরকি, টেটা, বল্লম ও লাঠি দিয়ে গ্রামবাসীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয় অন্তত ২৫ জন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন- শেখর ইউনিয়নের দৈবকনন্দপুর গ্রামের আফতাব (৪২), দুর্গাপুর গ্রামের নাদেন (২৪), লিপটন শিকদার (৩৫), বাজিতপুর গ্রামের রেজাউল (৫০), বিপ্লব (৩৫), ওহিদ (৪০), ইউনুস (৫০)।
স্থানীয়রা জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে বাড়িঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এ সময় তারা গবাদিপশু, গহনা, ফসল ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। পরমেশ্বরদী গ্রামের মকসেদ শেখ, মাসুদ ও হারুনের নেতৃত্বে সালথার খারদিয়া এলাকা থেকে লোক এনে এই হামলা চালানো হয়।
দুর্গাপুর গ্রামের ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘খারদিয়া গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের গ্রামে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমাদের বহু মানুষ মারাত্মক আহত হয়েছে। এমন বর্বর ঘটনার কঠোর বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, ‘খবর পেয়ে দ্রুত যৌথ বাহিনী পাঠানো হয়। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।’
সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালথা থেকে লোক এনে হামলা চালানো হয়েছে। এটি এক প্রকার বর্বরতার শামিল। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে, দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’