হাসিনা গোঁজামিল সম্পদ বিবরণী দাখিল করে: দুদক চেয়ারম্যান

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার সম্পদের হিসাব বিরাট রকম গোঁজামিল দিয়ে দাখিল করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদি সঠিকভাবে সম্পদের হিসাব পরীক্ষা করা হত, তাহলে তার মনোনয়ন বাতিল হত। তিনি প্রধানমন্ত্রী হতেন না। তার দলও ক্ষমতা আসতো না। আগামী নির্বাচনে সৎ লোককে নির্বাচিত করতে হবে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে গনশুনানী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দুদকের চেয়ারম্যান ড মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন যদি অসৎ লোককে নির্বাচন করা হয় তাহলে তিনি প্রশাসনের অসৎ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পদে বসাবেন। আরও সৎ লোক নির্বাচিত হলে প্রশাসনে ভাল লোক নিয়োগ পাবে। জনগণ উপকৃত হবেন। আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে সুশাসনের অভাব। এর শুরুটা হয় দুর্নীতি দিয়ে। আর এ সবের শিরোমণি হচ্ছেন রাজনীতিবিদরা, যারা ক্ষমতায় থাকেন। যদি জনগণ খারাপ মানুষকে নির্বাচিত করেন তাহলে এর ফল তো ভোগ করতেই হবে। এ দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নষ্ট হয়ে গেছে। তা রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতারা সম্পদ বিবরণীতে আংশিক হিসাব দাখিল করেন আংশিক লুকিয়ে রাখেন। সাংবাদিকরা এই সম্পদ লুকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেন। তিনি বলেন একজন প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ বেশ ভালভাবেই জানেন সাংবাদিকরা। তাই  এ সব সহযোগিতা  করবেন না। 

দুদকের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরেও যদি সময়মত তথ্য ও তদন্ত করার সুযোগ পাই তাহলে আমরা জানিয়ে দিতে পারবো প্রার্থীর দেয়া সম্পদ বিবরণী সঠিক নয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন বর্তমান উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা যদি সম্পদের হিসাব দেন জনগণ তাদের সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা পাবে।

এর আগে শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত গণ শুনানিতে  বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ২শ টির মধ্যে ৮০টি অভিযোগ শুনানই হয়। ৪/৫টি  অভিযোগ দুদক তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ড মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন,  বিশেষ অতিথি ছিলেন দুদক কমিশনার(তদন্ত)  মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, সচিব মুহাম্মদ খালেদ রহীম। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।