কাশির সিরাপ খেয়ে নিষিদ্ধ মেসির সতীর্থ দুই বছর পর ফিরলেন ফুটবলে 

বিশ্বকাপ–জয়ী আর্জেন্টাইন তারকা আলেহান্দ্রো ‘পাপু’ গোমেজ দুই বছরের ডোপিং নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও ফুটবলে ফিরেছেন। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডার দীর্ঘ বিরতির পর ইতালিতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নেমে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।

৩৭ বছর বয়সী গোমেজের নিষেধাজ্ঞার শুরু হয়েছিল সেভিয়ায় থাকা অবস্থায় টারবিউটালিন নামক নিষিদ্ধ ড্রা পরীক্ষায় ধরা পড়ার পর। এর পরই সেভিয়া তাঁর সঙ্গে চুক্তি শেষ করে, পরে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য খেলেন মনজায়।

নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় ১৮ অক্টোবর ২০২৫-এ। এরপরই তিনি নতুন দলে যোগ দেন—ইতালির সেরি বি ক্লাব পদোভার হয়ে। ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে বদলি নামে মাঠে নেন তিনি। যদিও দল ২–০ গোলে হারলেও, সমর্থকদের করতালিতে ফিরে আসার ম্যাচটি ছিল আবেগঘন।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত গোমেজ বলেন, 'ভ্রমণে আসিনি। পদোভাকে যতদূর সম্ভব তুলে নেওয়াই আমার লক্ষ্য।'

বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা ও মানসিক অস্থিরতা

গোমেজ দাবি করে আসছেন যে তাঁর ব্যবহৃত নিষিদ্ধ উপাদানটি ছিল সন্তানের কাশি সারানোর সিরাপ থেকে আসা। তাঁর মতে, শাস্তিটা ছিল অযৌক্তিকই।

এক সাক্ষাৎকারে গোমেজ বলেন, 'কেউ কোকেন নিলেও ছয় মাসের শাস্তি হয়, কেউ গাঁজা খেলেও ছয় মাস। আর আমি ছেলের কাশির সিরাপের জন্য দুই বছর পেলাম… খুবই রাগ হয়েছিল। ফুটবল দেখা পর্যন্ত বন্ধ করে দিই। আমার কাছে ফুটবল তখন মৃত।'

বিশ্বকাপ জয়ের পরপরই মাঠের বাইরে ছিটকে পড়া তাঁর জন্য ছিল গভীর মানসিক আঘাত। নিষেধাজ্ঞার সময় তিনি হতাশা, একাকিত্ব এবং মানসিক চাপে ভুগেছেন বলে জানান। সেই সময় তাঁকে একজন মনোবিদের সাহায্যও নিতে হয়েছিল।

৩৭ বছর বয়সেও থেমে যেতে চান না পাপু গোমেজ। নিজের ক্যারিয়ারের শেষটা তিনি নিজ শর্তে কাটাতে চান—মাঠে নেমে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করে।