দোহায় অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠতে পারলো না ব্রাজিল। সোমবার অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৬-৫ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় সেলেসাও কিশোরদের। এখন আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে তারা।
অ্যাস্পায়ার জোনে ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা-রোমাঞ্চে ভরপুর। গোল না হলেও খেলা ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে সমৃদ্ধ। ব্রাজিল নিয়েছে ১২টি শট, পর্তুগাল ৯টি। দুই দলের গোলরক্ষক—ব্রাজিলের জোয়াও পেদ্রো ও পর্তুগালের রোমারিও কুনিয়া—দুজনই রুখে দিয়েছেন একাধিক নিশ্চিত সুযোগ।
ম্যাচজুড়েই ছিল কঠিন ট্যাকল ও রেফারির হস্তক্ষেপ। মোট সাতটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়—পর্তুগাল চারটি ও ব্রাজিল তিনটি। এর মধ্যে ব্রাজিল মিডফিল্ডার জে লুকাসের প্রতি একটি হলুদ কার্ড ছিল বেশ প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ রিপ্লেতে দেখা যায় বলেই ট্যাকল করেছিলেন তিনি।
টাইব্রেকারেও উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। দুই দলই প্রথম পাঁচ শটে পাঁচটি করে গোল করে ম্যাচকে নিয়ে যায় ‘অলটারনেটিভ সাডেন ডেথ’-এ। সেখানেই ব্রাজিলের একটি শট থামিয়ে দেন রোমারিও কুনিয়া, আর পর্তুগালের ষষ্ঠ শট জালে জড়াতেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয় তাদের। ফাইনালে আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
তবে ব্রাজিলের টুর্নামেন্টটা শুধু হতাশার নয়—এ দলটিতে উঠে এসেছে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার। বিশেষ করে ডেল, যাকে ব্রাজিলিয়ান মিডিয়া ডাকছে ‘হালান্ড অব দ্য সেরতাঁও’—শারীরিক গঠন আর নাম্বার-নাইন ভূমিকা থেকে তার সাথে তুলনা করা হচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা হালান্ডের। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের দুই গোলই করেছিলেন এই ১৭ বছরের স্ট্রাইকার। সেমিফাইনালের টাইব্রেকারেও তার শট ছিল নিখুঁত।
নির্ধারণী মুহূর্তে ব্যর্থ হয়ে ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙলেও লড়াকু পারফরম্যান্সে ভবিষ্যতের বড় মঞ্চে ব্রাজিলের এই প্রজন্ম অনেক আশা ছড়িয়েছে—এমনটাই বিশ্বাস করেন কোচ ও সমর্থকরা।
আলোনসোর সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক না হলে চুক্তি নবায়ন করবেননা ভিনিসিয়ুস