চাকরির জন্য তরুণদের পছন্দ স্বাস্থ্য খাত

আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা খাত চাকরির জন্য বেশি আকর্ষণীয়। দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত জাতীয় এক জরিপে দেখা গেছে, তরুণরা এখন রোগীর সেবা করার মতো পেশার দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উদ্বেগ, চাকরির নিরাপত্তা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের জন্য কিছু করার আকাক্সক্ষ। ব্র্যান্ড ভ্যালুর চেয়ে তাদের কাছে চাকরির স্থায়িত্ব ও মানসিক সন্তুষ্টি এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

ন্যাশনাল সোসাইটি অব হাইস্কুল স্কলারস (এনএসএইচএসএস)-এর সর্বশেষ জরিপ মতে, পছন্দের নিয়োগদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানগুলো এখন হাসপাতালের দখলে। তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ‘সেন্ট জুড চিলড্রেনস রিসার্চ হসপিটাল’ এবং দ্বিতীয় স্থানে ‘মেও ক্লিনিক’। এক সময়ের স্বপ্নের কর্মস্থল ‘গুগল’ এখন নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। জরিপে অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে কাজ করতে বেশি আগ্রহী।

এআইভীতি ও চাকরির নিরাপত্তা

তরুণদের মতে, রোগীর সেবা বা চিকিৎসার মতো কাজগুলো রোবট বা অটোমেশন দিয়ে পুরোপুরি করা সম্ভব নয়। কারণ এখানে মানুষের বিচার বুদ্ধি ও পারস্পরিক সম্পর্কের প্রয়োজন হয়। যা এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা কঠিন। তাই এই পেশায় চাকরির নিরাপত্তা বেশি। অন্যদিকে এআই নিয়ে তাদের মনোভাব বেশ সতর্ক। তারা এমন কাজ খুঁজছে, যা দীর্ঘস্থায়ী। যেখানে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ আছে। ডেলয়েটের ২০২৪ সালের বৈশি^ক প্রতিবেদন মতে, জেন-জি এখন ব্র্যান্ডের জৌলুসের চেয়ে নিজের ভালো থাকা ও ক্যারিয়ারের উন্নতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

চাকরির বাজারের বাস্তবতা

চাকরির বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিও স্বাস্থ্য খাতের অনুকূলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে চিকিৎসকের চাহিদাও বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত আমেরিকায় চিকিৎসকের ঘাটতি থাকবে। এ ছাড়া প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু শহরে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু হাসপাতাল শহর-উপশহর থেকে শুরু করে গ্রাম সব জায়গায় থাকে। ফলে নতুন গ্র্যাজুয়েটরা নিজের এলাকার কাছাকাছি থাকার সুযোগ পায়। এটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে তারা দেখছে।

মূল্যবোধের পরিবর্তন

জেন-জি প্রজন্মের এই পছন্দের পেছনে শুধু চাকরির নিরাপত্তা নয়, মূল্যবোধের পরিবর্তনও কাজ করছে। তারা স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার ও পরিবেশের মতো বিষয়গুলোতে অবদান রাখতে চায়। জরিপ মতে, প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী তাদের বসের কাছ থেকে ‘স্পষ্ট যোগাযোগ’ আশা করে। চাকচিক্যময় সুযোগ-সুবিধার চেয়ে সততা ও সঠিক দিকনির্দেশনা তাদের কাছে বেশি জরুরি।

প্রযুক্তি খাতের চ্যালেঞ্জ

অনেকেই মনে করছেন, বড় টেক কোম্পানিগুলোর কাজের পরিবেশ অস্থির। এ ছাড়া গোপনীয়তা বা ডেটা প্রাইভেসি নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। এ কারণেই মেধাবী তরুণরা এখন প্রযুক্তি খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তবে হাসপাতালে প্রযুক্তির ব্যবহার কমছে না। স্বাস্থ্য তথ্যের নিরাপত্তা ও ডেটা বিশ্লেষণের জন্য হাসপাতালেও প্রযুক্তিবিদদের প্রয়োজন হচ্ছে। দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর ওপর করা এই জরিপটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পরিচালিত হয়। জরিপের ফলাফল মতে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যদি আবার মেধাবীদের আকর্ষণ করতে চায়, তবে তাদের চাকরির স্থায়িত্ব ও এআই-এর সঠিক ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।