চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচের রাতটি স্রণীয় হওয়ার বদলে দুঃস্বপ্নে রূপ নিল পেপ গার্দিওলার জন্য। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠেই জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেনের কাছে ২–০ গোলে হেরে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। নিউক্যাসলের বিপক্ষে লিগে হারার পর গার্দিওলা সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে মূল একাদশে করেন ১০টি পরিবর্তন। আর সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অধিনায়ক আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোর দুর্দান্ত শটে লিড নেয় লেভারকুসেন। দ্বিতীয়ার্ধে প্যাট্রিক শিকের উঁচু হেড সিটি ডিফেন্স ভেঙে দ্বিতীয় গোল এনে দেয়। শেষে ড্রামের তালে তালে অতিথি সমর্থকদের সঙ্গে দলও উদযাপন করে ঐতিহাসিক জয়। ম্যাচ শেষে লেভারকুসেন তারকা জারেল কুয়ানসাহ বলেন, ‘অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় না থাকায় আমাদেরই এগিয়ে আসতে হয়েছে। চরিত্র ও দৃঢ়তাই আজ পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’
অন্যদিকে গার্দিওলার সিদ্ধান্তের কারণেই সিটিকে ভূগতে হয়েছে। হালান্ড, ফোডেন ও রায়ান শেরকি ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন। পরে নেমে পরিস্থিতি পাল্টানোর চেষ্টা করলেও তেমন কিছুই করতে পারেননি। ওমর মারমুশ, সাবিনিও ও অস্কার বোবকে কার্যকর মনে হয়নি। তাই সিটির আক্রমণ বার বার ভেঙে পড়ে। হতাশ গার্দিওলা বলেন, ‘সমালোচনা মেনে নিচ্ছি। জিতলে সমস্যা হতো না। হয়তো অনেক বেশি পরিবর্তন হয়ে গেছে।’
জার্মান দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ঝামেলা দিয়ে—জার্মানিতে লাগেজ সমস্যার কারণে দেরিতে ছাড়ে তাদের বিমান। তবুও ম্যাচে তারা ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে এই পরাজয়ে সিটির সামনে কঠিন পথ। ১০ ডিসেম্বর রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে পয়েন্ট আদায় করাই হবে আসল পরীক্ষা। কোচ গার্দিওলার আক্ষেপ, ‘বড় দলে খেললে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। আজ সবাই পিছলে গেল, শট ব্লক হলো। নিয়মিতদের খেলালে হয়তো আত্মবিশ্বাসটা থাকত।’