তিশার পাল্টা অভিযোগে ক্ষুব্ধ টলিউড নির্মাতা, ফাঁস করলেন নতুন তথ্য

দু’তিন দিন ধরেই মডেল-অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিব্রত দেশীয় শোবিজ। বর্তমানে উঠতি তারকা ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও তার প্রথম অভিনয় করার কথা ছিল কলকাতার সিনেমায়। ওপার বাংলার ‘ভালোবাসার মরশুম’ শিরোনামের চলচ্চিত্রটিতে কাজ শুরু হওয়ার আগেই সরে দাঁড়ান তিশা। এরপর শুরু হয় অভিযোগের পালা। প্রথমে ছবির প্রযোজক পরিচয় দেওয়া শরীফ খান অভিযোগ তোলেন, কাজ না করেও তিশা নাকি ফেরত দিচ্ছেন না অগ্রিম পারিশ্রমিক সাড়ে চার লাখ টাকা। যদিও তিশার দাবি, শরীফ ছবির কোনো প্রযোজকই নন। অভিযোগের জবাবে গত রবিবার দিবাগত রাতে তিশা ফেসবুকে এক বিবৃতি দিয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। জানান, এই ছবির কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

এবার ছবির পরিচালক এমএন রাজ মুখ খুলেছেন বিষয়টি নিয়ে। তিনি স্পষ্ট করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিশা ভুল বিবৃতি দিচ্ছেন।’ পরিচালকের দাবি, ‘তিশাকে টাকা দেওয়া হয়েছে। কাজ না করায় সেই টাকা তাকে ফেরত দিতেই হবে। এক সাক্ষাৎকারে এমএন রাজ বলেন, ‘আমি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ভেতরে ভেতরে কী হয়েছে জানতাম না। কিন্তু যেহেতু তিশাকে টাকা দেওয়া হয়েছে, সে অবশ্যই ফেরত দেবে। কোনো চুক্তিপত্রে টাকা ফেরতের বিষয় লেখা থাকে না। এটা নিয়মই নয়। সে কাজ করেনি, কিছু টাকা তো ফেরত দিতেই হবে।’ 

পরিচালক জানান, তিশার জন্য তারা এক মাস অপেক্ষা করেছেন। এমনকি বলিউড অভিনেতা শারমান যোশির শিডিউল পরিবর্তন করতে হয়েছে তার সুবিধার জন্য। তার ভাষায়, ‘তিশার জন্য রিকোয়েস্ট করে শারমানের তারিখ বদলেছি। কিন্তু তিশা অ্যাম্বাসিতে গিয়ে পাসপোর্টটাও জমা দেয়নি। সে আমেরিকায় চলে যায়। আমি শুধু বলেছিলাম, পাসপোর্ট জমা দাও, তারপর যাও।’ 

এমএন রাজ বলেন, ‘৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় তিশার অ্যাম্বাসিতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যান এক ঘণ্টা দেরিতে। ১০টায় গিয়ে বললো, বিকেলে ভিসা নিশ্চিত করলে পাসপোর্ট জমা দেবে। এটা সম্ভব না বলতেই সে অপমানজনক ভঙ্গিতে বললো I don't care about it। ১৫-২০ মিনিটের মাথায় সে চলে যায়। আর সার্ভার তখনই ঠিক হলো! আমি খুব অপমানবোধ করি। একজন শিল্পী পরিচালককে এভাবে বলতে পারে না।’ 

কিন্তু বিবৃতিতে তিশার পাল্টা দাবি, ‘আমিই দুই মাস অপেক্ষা করেছি।’ ফেসবুক বিবৃতিতে তিশা আরও বলেন, ছবির কাজ সেপ্টেম্বরেই শুরুর কথা, কিন্তু পরিচালক প্রস্তুত ছিলেন না। উল্টো তাকেই নাকি অপেক্ষায় রাখা হয় দীর্ঘ সময়। এ কারণে তিনি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। পরিচালকের উত্তর, ‘এটা ভুল কথা। জুলাইয়ে কথা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শুটিং ছিল। ভিসার স্লট বের করতে সমস্যা হচ্ছিল, কিন্তু তিশা নিজে কোনো চেষ্টা করেনি। আমরা সব ব্যবস্থা করেছি।’ 

পরিচালকের কড়া বক্তব্য, ‘তিশার জন্য আমরা সেপ্টেম্বরের ১৭-১৮ ও ১৯ তারিখ নায়িকা ছাড়াই শুট করেছি। দুর্গাপূজার আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। এরপর বাধ্য হয়ে নতুন নায়িকা নিয়েছি। এখন সে ভুল বিবৃতি দিচ্ছে। এটা উচিত নয়।’