অলিম্পিকে নির্বাচন: রানা-ইমরোজের প্রার্থীতায় স্বার্থের সংঘাত দেখছে এনএসসি

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হওয়া জোবায়দুর রহমান রানার জন্য ছিল সময়ের ব্যাপার। ৩০ নভেম্বর নির্বাচনে মহাসচিব পদে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আছে কেবল তার নাম। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষনাটাই কেবল বাকী। এ অবস্থায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২৫ নভেম্বরের এক চিঠি সব হিসাব উলটে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের কাছে ক্রীড়া পরিষদের সচিব (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে সরকার গঠিত সার্চ কমিটির আহবায়ক রানা ও এর সদস্য মেজর ইমরোজ আহমেদের বিওএ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে একটা স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিট অব ইন্টারেস্ট) ঘটতে যাচ্ছে। 

বিওএ'র যারা কাউন্সিলর হয়েছেন, সেই ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্তাদের বেশির ভাগের নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সার্চ কমিটির। যার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন রানা ও ইমরোজ। এ অবস্থায় তাদের বিওএ তে নির্বাচন করাকে ভালো চোখে দেখছে না খোদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

রানা এই নির্বাচনে মহাসচিব পদে একমাত্র প্রার্থী। আর ইমরোজ সহ সভাপতি প্রার্থী, পদের সমান প্রার্থী হওয়ায় এখানেও ভোটাভুটি হচ্ছে না। দুজনই আবার কাউন্সিলর হয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির কোটায়। 

নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ করে ২৫ নভেম্বরের চিঠিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ লিখেছে, "উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিদ্যমান ক্রীড়া ফেডারেশন/এসোসিয়েশন/বোর্ড সংস্থা সমূহের 'কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে ০১-১০-২০২৪ তারিখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক ০৫ সদস্য বিশিষ্ট গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ৪৯ টি ক্রীড়া সংস্থার ফেডারেশনের এ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির আহবায়ক ছিলেন মো: জোবায়েদুর রহমান এবং সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ ছিলেন। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫ এ বিওএ সভাপতির কোটায় ইমরোজ আহমেদ সহসভাপতি পদে এবং রানা মহাসচিব পদে একমাত্র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কাউন্সিলর তালিকায় উক্ত সার্চ কমিটির গঠিত ২৫টি জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি হতে ২জন করে ৫০জন, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা হতে ২জন, আলাদাভাবে ৩টি ফেডারেশন হতে আরও ৩ জন প্রতিনিধিসহ মোট ৫৫ জন সদস্যকে কাউন্সিলর হিসাবে রাখা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, ইমরোজ আহমেদ এবং জোবায়েদুর রহমান রানার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫ এ অংশগ্রহণ করা কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট (স্বার্থের সংঘাত) হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইহা মহোদয়ের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।"

চিঠিটির অনুলিপি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। 
সরকারের পক্ষ থেকে এরকম নির্দেশনামূলক চিঠি প্রাপ্তির পর গঠিত নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই দেখার।