যোবায়ের শাওনের কবিতা

এক

আমাকে নাম ধরে ডেকে এত ব্যাকুল করো

যাতে নিজেকে আমার বায়বীয় মনে হয়।

এতটা মায়ায় বসতে বলো, চলতে বলো

নামতে-থামতে বলো যাতে আর কারও ডাকে

নিজেকে চিনতে না পারি; তোমার আহ্বানে

বিলীন হওয়ার পথে নিয়ত নিরুদ্দেশ!

 

আমাকে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে আটকাও

যেন তোমাকে জাপটে ধরে স্থির হয়ে আছি!

ভালোবাসার নামে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তুমি

এতটা উঁচুতে আসন করে বসতে পারো

যাতে তোমার চোখ বরাবর দৃষ্টি না পড়ে;

যেন তুমি নাম না নিলে একজিস্ট করি না

অবয়বহীন অশরীরী আমি ফিলিস্তিন;

তোমার ডাকে এই আছি আবার যেন-বা নেই!

 

দুই

তোমার পারমাণবিক প্রণয়ের উষ্ণতা

ইরেজ করে দেয় হাতের মানচিত্ররেখা!

আমাকে আড়াল করে তুমি বোধের আবাদি

মহাশূন্যব্যাপী শান্তির কপোট পায়রারা

উড়ে ঘুরে করে চলে প্রাণের অনুসন্ধান;

যদিও তোমার কলবের সাক্ষাৎ পাও না!

 

আমাকে এমনভাবে দেউলিয়া করে দাও

যাতে আমি ভুলে যাই নিজের ঠিকানা-ভূমি,

জন্মদায়ী নদীর কাছে গিয়ে ভড়কে যাই

পা হড়কে পিছলে যাই মুখাবয়ব দেখে;

যেন অশরীরী অনুভূতিহীনযার পরিচয়

জানা নেই কারও! যেন পায়ের তলায়

স্মৃতির ফোরাত এসে মিশে যায় যমুনায়

সমুদ্রও লবণাক্ত সকলের বেদনায়!

তিন

তোমার চেনা ইবলিশের ভয় হতে পারি

যাকে পরাজিত করার চেষ্টায় আমাকেই

বেছে নিয়েছ নির্বাচিত পদাবলীর মতো;

হতে পারি তোমার ডিএনএ’র সিঁড়িতে থাকা

ঘাপটি মারা আদিতম সন্দেহের জাতক

নূহের প্লাবন ঝড়ে যার হয়েছে বিলীন!

 

আমাকে এমনভাবে চিহ্নিত করো যাতে

জীবন বিপন্ন, দেখামাত্র বধ করা যায়।

যাকে দেশহীন-ধর্মহীন বলার অভ্যাসে

সীমান্তের এপার-ওপার, নো-ম্যানস ল্যান্ডে

নির্দ্বিধায় কতল করে ফেলে রাখা যায়

বিপ্লবী-মৌলবি বলে বাতিল করা যায়।

আদিম-অসভ্য তকমায় বরাবর ফেলে

যেমন দখলদারি চলেছে ভূ-ভাগ জুড়ে!

চার

সমতলের আবাস-অভ্যাস নিয়ে পাহাড়ে

বিস্তারিত তোমার খায়েশ, নির্মাণাধীন

যবানে-ভবনে মালিকানার সিলমোহর;

আমি তখন ঝরনার মতোন পতনোন্মুখ

নেমে যাই সামাজিক আকাশ-জমিন ছেড়ে

মনাঞ্চল-বনাঞ্চল ফেলে বেদনা-উদ্দেশে!

 

আমাকে এমনভাবে তাকিয়ে দেখতে পারো

যাতে আমি পুড়ে হই ছাই; যেন গ্রন্থভুক্ত

ইয়াজুস-মাজুস, তোমার প্রাণান্ত মগজে

নিউরনে সন্দেহের অবকাশে তুলে যাচ্ছো

দেয়াল ক্রমশ! মানুষের মতো অবয়বে

চাষ করে যাচ্ছো বরাবর ঘৃণার ফসল।

বাদী বৃক্ষপুষ্পরাজি আত্মাহুতি দিল বলে

কত প্রজাতি বিলুপ্ত মন-প্রাণ-স্মৃতিহীন!