দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, শুধু অভিযোগ নয়, বরং যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আসুন। সরকার আপনাদের সহায়ক। আপনাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা (সরকার) বাধ্য। তবে সেটি হতে হবে ন্যায়সংগত ও মানসম্পন্ন শিল্প-আচরণের ভিত্তিতে।
গত বুধবার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে ‘চতুর্থ সিরামিক এক্সপো ২০২৫’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। বক্তব্যে রপ্তানি খাত হিসেবে সিরামিক শিল্পের সম্ভবনা কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) এ মেলার আয়োজন করেছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের পরিবর্তিত রাজনীতি প্রমাণ করেছে অতীতের মতো ‘সংযোগনির্ভর ব্যবসা’ আর চলবে না। সময় এখন দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রযুক্তির। পোশাক খাত মাত্র এক যুগে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত হলেও সিরামিক খাত কেন পারছে না এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সিরামিক কেন সেই অবস্থায় যেতে পারছে না? কারণ আমাদের খরচ-প্রতিযোগিতা, ডিজাইন নবায়ন, লজিস্টিক দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও জ¦ালানি ব্যবস্থাপনার অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধানে যেতে হবে।
উদ্বোধন শেষ বাণিজ্য উপদেষ্টা সিরামিক এক্সপোতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টল পরিদর্শন করেন। জানা গেছে, বসুন্ধরার আইসিসিবিতে শুরু হওয়া মেলা চলবে চার দিনব্যপী। শেষ হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সিরামিক এক্সপোতে বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ থেকে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান ও ৩০০ ব্র্যান্ড অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। এ ছাড়া মেলায় এ খাতের ৫০০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও ক্রেতা অংশ নিচ্ছে। সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০২৫ দেশের চতুর্থ ও এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।
সিরামিক খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ইতিমধ্যে টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যারসহ বিভিন্ন খাতের ৭০টির বেশি কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব পণ্যের স্থানীয় বাজার বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার। গত ১০ বছরে এ শিল্পে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ। বর্তমানে ৫০টির বেশি দেশে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ শিল্প খাতে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের।
বিসিএমইএ সভাপতি মইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তেনিও আলেসান্দ্রো। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং মেলা কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিএমইএ সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দীন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।